ছবিবিনোদনভাইরাল

সমাজের নিয়মকে বুড়ো আঙুল! সোনা নয় ইমিটেশনের গয়না পরেই হল বিয়ে, পাত্রীকে কুর্নিশ নেটপাড়ার

আজকের ২১ শতকের যুগে দাঁড়িয়ছ শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্রেই নয় দায়ীত্ব, এবং কর্তব্য পালনের দিক থেকে একজন মেয়ে কোনো অংশেই ছেলেদের থেকে কম নয়। একথা প্রমাণিত হয়েছে আগেও। কিন্তু আজও আমাদের ভারতবর্ষের মতো দেশে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেশকিছু বদ্ধমূল ধারণা রয়েই গিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল বিয়ে নিয়ে তৈরি একাধিক মনগড়া কনসেপ্ট।

যার মধ্যে প্রথমেই আসে মেয়ের বিয়েতে সোনা দানা দেওয়া নিয়ে আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে চোখ টানাটানির বিষয়টি। বিয়ে বাড়ি এসে সবার প্রথমেই সকলেই মাপজোক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মেয়ের গায়ে কত ভরি সোনার গয়না চাপানো হয়েছে তা নিয়ে। সমাজের এই ধরনের মানসিকতার মানুষের মুখে একেবারে নিরবে ঝামা ঘষে দিয়েছেন শ্যাম নগরের বাসিন্দা এক তরুণী।


অনেকদিন আগেই ঠিক করে নিয়েছিলেন,বিয়ে করলে নিজের টাকায় করবেন, এবং তা করেও দেখিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী পিহু সাঁতরা (Pihu Santra)। শুধু তাই নয় বিয়েতে পরেননি একটাও সোনার গয়না (Gold Jewellery)। শুধুমাত্র ইমিটেশনের গয়না পরেই একটা আস্ত বিয়ে সেরেছেন পিহু। তাতে তার নিজের তো কোনো আফসোস নেইই, পাশাপাশি তার এমন সিদ্ধান্ত কে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা নেট দুনিয়া।

পেশায় ভ্রমণ সংস্থার মালিক এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর পিহু সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের কনের সাজে নিজের একটি ছবি দিয়ে লিখেছেন ‘ভারতীয় বিয়ে মানে প্রচুর সোনার গয়না। একমাত্র মেয়ের বিয়েতে বাবা, মায়ের ইচ্ছাপূরণে আমি পুরো ইমিটেশন গয়না (Imitation Jewellery) পরেছিলাম। বিয়েতে কোনও সোনা পরিনি। নিজের টাকায় পুরোটা কিনেছি। আর্থিকভাবে যতটা সম্ভব, বাবা-মা’কে সাহায্য করেছি। বরমালা থেকে শুরু করে গয়না, জুতো থেকে হাতব্যাগ, মুকুট থেকে শাড়ি, মেকআপ আর্টিস্ট থেকে ফোটাগ্রাফার – সাধ্যমতো করেছি।’


তবে স্বভাবতই অনেকে তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এপ্রসঙ্গে পিহুর স্পষ্ট জবাব ‘প্রথমত, বাবা-মা এমনভাবে মানুষ করেছে যে জীবনে আমি নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং নিজে চাইলে নিজের গয়না কিনতে পারি। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে গয়নার জন্য অনেক টাকা খরচ করার কোনও কারণ খুঁজে পাইনি। তাই সোনা না কেনার সিদ্ধান্ত একান্তই আমার। তাছাড়া বাবা, মায়ের উপর বিয়ের জন্য কোনওরকমভাবে চাপ তৈরির কোনও কারণ খুঁজে পাইনি আমি।’

Related Articles

Back to top button