বাংলা টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী (TV Actress) হলেন সৌমি ঘোষ (Soumi Ghosh)। টেলিভিশন জগতে খলনায়িকা চরিত্রেi বেশি জনপ্রিয় হয়েছেন তিনি। তার অভিনয়ের ঝুলিতে রয়েছে ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’ থেকে শুরু করে ‘ওগো নিরুপমা’, থেকে শুরু করে ‘সীমারেখা’র মতন জনপ্রিয় সব সিরিয়াল। তবে প্রতিটি সিরিয়ালে খলনায়িকা চরিত্রেই বেশি দেখা গিয়েছে তাকে।
এইভাবে পরপর খলনায়িকা চরিত্রে অভিনয় করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। সেইসাথে টাইপকাস্টও হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি ভবিষ্যতে আর নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করবেন না। তার কারণ হিসাবে অভিনেত্রী বলেছেন প্রথমত মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার যোগ্যতা থাকলেও পরিচালকরা তাকে খল নায়িকার চরিত্রে ছাড়া ভাবতে পারছেন না।
দ্বিতীয়ত সিরিয়ালে সারাক্ষণ কূটকচালি এবং নেগেটিভ চরিত্র করতে গিয়ে বাস্তবেও তার মধ্যে নাকি অনেক নেগেটিভিটি চলেএসেছিল। তাই অভিনেত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগামী দিনের কাজ না পেলেও তিনি বসে থাকবেন কিংবা নিজের পড়াশোনার দিকে ফোকাস করবেন তাও ভালো কিন্তু ভবিষ্যতে আর নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করবেন না। প্রসঙ্গত এই অভিনেত্রী ইদানিং আকাশ আটের ‘শ্রেয়সী’ (Shryeoshi) ধারাবাহিকের কাজরী (Kajri) চরিত্রে অভিনয় করছেন।
এই চরিত্রটি এখনও পুরোপুরি নেগেটিভ হয়ে ওঠেনি। সিরিয়ালে আপাতত তাকে দেখা যাচ্ছে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছে সে। তাই অভিনেত্রী জানিয়েছেন এখনো অব্দি এই চরিত্রটা তার করতে ভালো লাগছে কারণ এখনও পর্যন্ত এই চরিত্রে তিনি কোন রকম নেগেটিভিটি বা একঘেয়েমি খুঁজে পাননি। তবে যেদিন এই চরিত্রটাতেও নেগেটিভিটি চলে আসবে সেদিন তিনি নিজেই এই চরিত্রটিও ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন। সম্প্রতি টলিউড ফোকাস কলকাতা নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে অভিনেত্রী জানিয়েছেন একটা সময়অভিনয়ে আসার জন্য তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছিল।
উল্লেখ্য সৌমি অনেক ছোট থেকেই যুক্ত রয়েছেন অভিনয় জগতের সাথে। সেই সময় অনেকে নানাভাবে তাকে ছোট করার চেষ্টা করেছিলেন। সৌমির কথায় তার সবথেকে খারাপ লেগেছিল তখন ইন্ডাস্ট্রিতে যারা অভিনয় করতেন তাদের সবাইকে গাড়ি দেওয়া একমাত্র তার কাছেই সেই সুযোগ ছিল না। তাই সময়ের সাথে সাথে এখন তিনি শিখে গিয়েছেন না বলতে। সৌমি জানিয়েছেন ছোট থেকেই অভিনয় জগতে আসার ক্ষেত্রে তার জীবনে তার বাবার বিরাট অবদান হয়েছে।
সর্বক্ষণ তার পাশে তার বাবা বটগাছের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমনকি মেয়েকে শুটিংয়ে নিয়ে আসার জন্য নিজের কাজও হারিয়েছিলেন তিনি। বাবার চাকরি হারিয়ে চলে যাওয়ায় একটা সময় সৌমিই ছিলেন তাদের সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষ। তাই আট হাজার দশ হাজার যা তাকাই পেতেন তিনি রা দিয়ে দিতেন সংসার চালানোর খরচ জোগাতে। সে সময় খুবই কষ্ট করে বারাসাত থেকে যাতায়াত করতেন সৌমি। একটা সময় তাদের এমনও দিন গিয়েছে যখন বেশি ট্যাক্সি ভাড়ার জন্য তারা শিয়ালদা স্টেশনে রাত পর্যন্ত কাটিয়েছেন। সেই সময় সৌমি এবং তার বাবার কাছে শিয়ালদা স্টেশনটাও ছিল রাজপ্রাসাদের মত। তবে অভিনেত্রী জানিয়েছেন অভিনপিয়ে আসর শুরুর দিকে তিনি প্রথমে মায়ের সাপোর্ট পাননি। এখন যদিও পরিস্থিতি অন্যরকম। সময়ের সাথে সাথে তার মাও স্বীকৃতি দিয়েছেন তার পেশা কে।