ছোটপর্দা হোক কিংবা বড় পর্দা অভিনেতাদের কাছে চরিত্রই হল শেষ কথা। তাই চরিত্র অনুযায়ী সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা ভাবে নিজেদের তৈরি করে থাকেন অভিনেতারা। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির এমনই একজন পরিচিত অভিনেতা হলেন রাজীব বসু। অভিনয় জীবনের শুরুটা নায়ক হিসাবে করলেও ধীরে ধীরে নায়কের ভাই কিংবা অন্য কোনো পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন। হ্যাঁ ঠিক যেন উল্টোপুরাণ।আর ইদানীং তার কাজ নায়িকাকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলা খলনায়ক।
কিন্তু সবাই যখন নায়ক হিসাবে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের দিকে ঝোঁকে তখন রাজীব কেন এমন উল্টো পথের পথিক। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি অভিনেতা বলেছেন ‘আসলে গল্পের নায়ক বা মুখ্য চরিত্রে থাকা মানে অন্তত দেড় বছর এক ধারাবাহিকে আটকে যাওয়া। কনট্র্যাক্টে থাকলে অন্য কিছুতে কাজ করা সম্ভব হয় না। ছবি বা সিরিজের জন্য সময় বার করাটাও কঠিন হয়ে যায়। পার্শ্ব চরিত্রে কাজ করলে এই দুটোরই পথ খোলা। তা ছাড়া, পছন্দ মতো একাধিক ধারাবাহিকের চরিত্রে কাজ করা বা নিজের শখ পূরণের সুযোগও থাকে। সে কারণেই মুখ্য চরিত্রের প্রস্তাব ফিরিয়ে এই ধরনের চরিত্রগুলো বেছে নিই।’
দীর্ঘ প্রায় তেরো বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছেন রাজীব।জানা যায় ২০০৯ সালে ‘লুকোচুরি’ ধারাবাহিকে প্রথম নায়ক হয়ে অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন সুদীপ।এর পর ‘মেঘের পালক’, ‘মা সহ একাধিক সিরিয়ালে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন তিনি। এমন সময় অভিনেতার একদিন মনে হয়, ‘মুখ্য চরিত্রে কাজ করতে গেলে একটা ধারাবাহিকেই আটকে যাচ্ছি। তার পরেই সরে এলাম পার্শ্ব চরিত্রে।’
এরপর ধীরে ধীরে খলচরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা তৈরি হয় রাজীবের। সুশান্ত দাস প্রযোজিত ‘কৃষ্ণকলি’তে প্রথম খল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রাজীব। আর এখন ‘গ্রামের রানি বীণাপাণি’র পাশাপাশি ‘লক্ষ্মীকাকিমা সুপারস্টার’-এও গ্রে শেড রয়েছে রাজীবের চরিত্রে। তবে মজার বিষয় হল রাজীবের মা মা তাকে খারাপ মানুষের চরিত্রে দেখলেই রেগে যান। রাজীবের কথায় ‘ছেলে গল্পের নায়ক বা নায়িকার শত্রু, এটা বুঝলেই মা টিভির সামনে থেকে সটান উঠে পড়ে! (হাসি) রোজ বলে, ভাল চরিত্র কর, একদম খারাপ চরিত্র করবি না!’
শুধু তাই নয়, ভিলেন হতে দেখলে একদিকে যেমন রাজীবের মা রাগ করেন। তেমন পর্দার নায়িকাদের সাথে প্রেম করতে দেখলে বাড়িতে বউয়ের মুখ ভার হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেছেন ‘ বিয়ে হয়েছে বারো বছর আগে। টলিউডের শুরুর ওই সময়, প্রথম প্রথম প্রেমের দৃশ্যে অভিনয় করে বাড়ি ফিরে বুঝতে পারতাম বউয়ের মুখ ভার। বিয়ের আগে যখন প্রেম করছি, তখন তো এই ভয়েই অডিশন দিতে যেতাম না! তবে আস্তে আস্তে মোহিনী সবটা বুঝতে পেরেছে। এখন তো ও-ই আমায় ঠেলে কাজে পাঠায়!’