গল্পের গোরু গাছে উঠছে, নেই কোনোও মাথামুণ্ডু! ‘শ্রীময়ী’ বন্ধের দাবীতে সরব তিতিবিরক্ত দর্শকরা


সারাদিনের ক্লান্তি মিটিয়ে মা ঠাকুমা কাকিমাদের বিনোদন বলতে এই ধারাবাহিক গুলিই। আর এতদিন পর্যন্ত এর মধ্যেই তাদের অন্যতম পছন্দের ধারাবাহিক ছিল টোটা রায়চৌধুরী,ইন্দ্রাণী সেন অভিনীত শ্রীময়ী। সন্ধ্যে ৭ টা বাজলেই পরিবারের সকলে মিলেই শ্রীময়ী দেখতে ভীড় জমাতো টিভির সামনে। বেজে উঠত, “হঠাৎ অন্য হাওয়ায় একটু ভালোলাগায় ইচ্ছে কুড়োয় সুখ”। কিন্তু এখন যেন এই গানের লাইন দুটি বেজে উঠলেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠছেন দর্শকেরা।

দারুণ শুরু হয়েছিল শ্রীময়ী। কিন্তু দিন যতই গড়াচ্ছে ততই আজগুবি গল্পে, দিশাহীন চরিত্রদের ভীড় বাড়ছে। আর তাতেই রেগে আগুন খোদ শ্রীময়ীর অনুরাগীরাই। তাই বিরক্ত হয়ে এখন শ্রীময়ী বন্ধের দাবিতে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। দর্শকদের ধারাবাহিক দেখার ইচ্ছে এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে।

শ্রীময়ীর শুরুতে দেখানো হয়েছিল, শ্বশুরবাড়িতে এক নারীর প্রতিদিনের সংগ্রাম। স্বামীর কাছে অবহেলা পেয়ে সতীন নিয়ে ঘর করেও সে অবিচল তার লক্ষ্যে। স্বামীর প্রেমিকা জুনের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েও হার মানেননি শ্রীময়ী। পাশে পেয়েছিলেন তার প্রাক্তন রোহিত সেনকেও। নিজের রোজগারেই বাঁচতে চেষ্টা করছিলেন শ্রীময়ী ওরফে ইন্দ্রাণী হালদার। শ্রীময়ী যেন হয়ে উঠছিল প্রতিটা ঘরের নারীর কাহিনি। কিন্তু সময় যতই এগোচ্ছে ততই যেন দিকভ্রান্ত হচ্ছে লেখিকার কলম।

কিন্তু একটা সময় পর শ্রীময়ীর অতি ভালো মানুষীই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালো দর্শকদের। শ্রীময়ীর বিভিন্ন ফ্যানপেজ, গ্রুপে দাবি উঠছে, ” বাজে লাগছে দেখতে”, কেউ বা লিখছেন, “গল্পের গোরু গাছে উঠছে”। কেউবা বলছেন, ” আগে শ্রীময়ী দেখার জন্য ছটফট করতাম এখন দিঠিকে নিয়ে যা শুরু হয়েছে তা অসহ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

ধারাবাহিকে কিছু নতুন চরিত্র আনা হলেও টিআরপি বাড়েনি। ব্রিলিয়ান্ট দিঠি নাকি বিয়ের কথা ভাবছে, ডিভোর্সের পরও শ্রীময়ী অনিন্দ্যের মাখো মাখো প্রেম। রোহিত সেন দাপিয়ে বেড়ালো শ্রীময়ীর জীবনে এখন তিনি গুরুত্বহীন সব মিলিয়ে শ্রীময়ী শেষ হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন দর্শকেরা।