খবরবিনোদনসিনেমা

স্বপ্ন ছিল দেশের হয়ে কুস্তি খেলার! অ্যাকশন শিখিয়েছেন দেবকে, পেটের দায়ে আজ অটোচালক সানি

কথায় আছে মানুষ স্বপ্ন নিয়েই বাঁচে। আসলে কথাটা ঠিকই, কারণে অনেকেই স্বপ্নপূরণের লক্ষটাকেই জীবনের উদেশ্য করে তোলে আর সেদিকেই এগিয়ে চলে। কিন্তু এমনও কিছু মানুষ রয়েছেন যারা চাইলেও স্বপ্নপূরণটা হয়ে ওঠে না। এমনি একজন হলেন সানি। সেভাবে সানিকেই কেউই তেমন চেনেন না। তবে ছোট থেকেই কুস্তিগীর (Wrestler) হবার স্বপ্ন দেখত সানি। ইচ্ছা ছিল দেশের হয়ে খেলার। রিঙের মধ্যে খেলবে সানি আর চারপাশ থাকবে স্টেজ ভর্তি দর্শকেরা।

কিন্তু ওই যে সবার স্বপ্ন তো আর পূরণ হয় না। কিছু স্বপ্ন দারিদ্রতা থেকে শুরু করে সমাজের নানা বেড়া জালে আটকা পড়ে অধরাই থেকে যায়। সানির দেশের হয়ে কুস্তি খেলার স্বপ্নটাও অধরাই থেকে গিয়েছে। একসময় কুস্তিগীর হবার স্বপ্ন দেখা সানি এখন পেটের দায়ে বা বোলাভালো জীবিকা নির্বাচন করতে অটো চালাচ্ছে কলকাতার রাস্তায়। হাজারো মানুষকে তাদের গন্তব্য পৌঁছে দিয়ে সামান্য কিছু খুচরো পয়সা দিয়েই চলছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

বর্তমানে ৩০ বছর বয়স সানির। কলকাতার টালিগঞ্জ-যাদবপুর রুটে অটো চালান তিনি। তবে অটোচালক ছাড়াও কুস্তির প্রতি ভালোবাসার জন্য শেষমেশ জনপ্রিয় হওয়ার স্বপ্নটা খানিক পূরণ হয়েছে। বাংলার সুপারস্টার দেবের (Dev) ‘গোলন্দাজ (Golondaj)’ ছবিতে কাজের সুযোগ মিলেছে সানির। নিজেই কুস্তির ট্রেনিং দিয়েছেন দেবকে। আর সেই সুবাদেই ছবিতে অভিনয় করতেও দেখা যাবে সানিকে।

এই যা! সানির ভালো নামটাই বলা হয়ে ওঠেনি। আসলে সানি নামেই সবাই চেনে তাকে, তবে আসল নাম শুভদীপ ভৌমিক (Subhodeep Bhowmik)। নিজের ভালোনামটা প্রায় ভুলতেই বসেছিল সানি, তবে কুস্তির সার্টিকিকেটে নামটা আজও অমলীন। ২০১৮ সালে রাজ্য স্তরের কুস্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল সানি। এরপর জাতীয় স্তরেও খেলার সুযোগ হয়েছিল তবে প্রথম হওয়া হয়নি পঞ্চম স্থান পেয়েছিলেন।

তবে এতকিছুর পরেও কুস্তির থেকে দূরে থাকতে পারেননি সানি। বর্তমানে অটোচালানোর পাশাপাশি কুস্তির কোচিং সেন্টার চালান তিনি। যেদিন কুস্তি শেখানোর থাকে সেদিন অন্য কাউকে দিয়ে অটো চালানো হয় নাহলে রাতে যতক্ষণ পর্যন্ত শরীর দেয় ততক্ষন পর্যন্ত অটো চালান। এবার গোলন্দাজ ছবিতে কুস্তি প্রশিক্ষণের দায়িত্ব ছিল সানি ওরফে শুভদীপের ওপরেই।

সানির মতে, একসময় দাদার কথাতেই কুস্তির দিকে পা বাড়াই। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারি কুস্তিতে কাজের সুযোগ খুবই কম, তাছাড়া কুস্তি চালিয়ে যেতে হল খাওয়া দাওয়ার খরচও রয়েছে। তাই শেষমেশ বাড়ির সকলের সাথে কথা বলে লিজ নিয়ে অটো চালানো শুরু করলাম। সাথে অবশ্য কুস্তি রয়েছেই, তবে কুস্তি নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা আর সম্ভব নয়!

Related Articles

Back to top button