অভিনয়ের সুবাদে সিরিয়ালের নায়ক নায়িকাদের কাজ কিন্তু থেমে থাকে না। একটা সিরিয়ালের কাজ শেষ হতে না হতেই চলে আসে নতুন সিরিয়ালে অভিনয়ের সুযোগ। আর ইদানীং অভিনয় পেশার সাথে যুক্ত প্রায় সকল অভিনেতা,অভিনেত্রীদের কাছেই নেগেটিভ চরিত্রে (Negative Role) অভিনয়ের করার একটা অদ্ভুত ক্রেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিজেদের অভিনয় প্রতিভাকে আরও একটু বেশি ঘষে মেজে নিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটিয়ে তুলতে প্রায় সকলের কাছেই প্রথম পছন্দ কিন্তু এই গ্রে শেডের চরিত্র গুলি।
সম্প্রতি এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন স্টার জলসার শ্রীময়ী (Sreemoyee) সিরিয়ালের মিষ্টি মেয়ে দিঠি (Dithi) অভিনেত্রী ঐশী ভট্টাচার্য (Aishi Bhattacharya)। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় সিরিয়ালে ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করার পর আচমকাই নেগেটিভ রোল করতে শুরু করেছেন ঐশী। প্রসঙ্গত বাংলার সিরিয়াল প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খলনায়িকার চরিত্র হল শ্রীময়ীর জুন আন্টি। আর ওই একই সিরিয়ালে কাজ করার সুবাদেই জুন আন্টি চরিত্রের অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তীকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখেছিলেন।
আর এখন তিনি নিজেই মনফাগুন (Monphagun) সিরিয়ালে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার, প্রচন্ড বুদ্ধিধারী মিলি (Mili)চরিত্রে অভিনয় করছেন। আর এই চরিত্রের খাতিরেই তাকে কখনও নায়িকা পিহুকে মেরে চুপচাপ ফ্রিজে ঢুকিয়ে ফেলছে, আবার কখনও নকল প্রিয়দর্শিনী সেজে নায়ক নায়িকা কে আলাদা করার ভয়ানক সব ফন্দি আঁটছে। মিলির চরিত্রে তার গা জ্বালানো অভিনয় থেকে সংলাপ অল্প দিনেই আরও একবার মন জয় করে নিয়েছে দর্শকদের। এছাড়া মিলির মতো একটি নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় সুযোগ পেয়ে ঐশী নিজেও কিন্তু দারুন খুশি।
তবে দিঠির মতো মিষ্টি মেয়ের চরিত্রের খোলস ছেড়ে রাতারাতি মিলির মতো খলনায়িকা হয়ে ওঠা মোটেই সহজ ছিল না ঐশীর কাছে। এমনকি তার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীও ‘টাইপকাস্ট’ হয়ে যাওয়ার ভয়ে এই ধরনের নেগেটিভ রোল না করারই পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও যখন মিলির চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ আসে তখন ঐশীর মনে হয়েছিলএই চরিত্রের মধ্যে দিয়ে একই সঙ্গে তিনি দু’তিন রকমের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
তাই মিলির মতো একজন ঠাণ্ডা মাথার ক্ষতিকর মানুষের চরিত্রে অভিনয় করার লোভনীয় প্রস্তাব আর হাতছাড়া করেননি ঐশী। আর ইদানীং দর্শকদের থেকে তিনি যে প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন তাতে দারুন খুশি পর্দার মিলি। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি একটা ছোট্ট অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ঐশী বলেছেন “একদিন এক চেনা দিদি আমার বাড়িতে এসেছিল। সে বলল, মিলির চরিত্রে আমার মুখটা নাকি বেশ শয়তান শয়তান লাগছে। সবাইকে নাকি এ রকম লাগে না।” আর অভিনেত্রী হিসাবে এটাই ঐশীর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।