গীতার বাণিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন নিষ্কাম কর্মের কথা। সকলের উদ্দেশ্যে তাঁর পরামর্শ ছিল ‘কর্ম করে যাও ফলের আশা কোরো না’। তাই গীতায় কর্মের প্রতি মমতা ও আসক্তির বিরোধ করে বলা হয়েছে ‘মা কর্মফল হেতুর্ভূ’, অর্থাৎ কর্মফলের প্রত্যাশা কোরো না। গীতার এই বাণিকেই সম্ভবত জীবনের মূলমন্ত্র করে নিয়েছিলেন বিহারের মেয়ে সম্প্রীতি যাদব (Sampriti Yaadav)।
একমাত্র নিজের আদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর অসম্ভব মনের জোর দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করে দেখিয়েছে মেয়েটি। শুনলে হয়তো অবাক হবেন এক,দু’বার নয় চাকরির পরীক্ষায় মোট ৫০ বার ব্যার্থ হয়েও হার মানেননি সম্প্রীতি। তাই হতাশ না হয়ে নিজের ব্যার্থতাকেই সাফল্যে পরিণত করে দেখিয়েছেন বিহারের ২৪ বছর বয়সী এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে বারবার বাতিল হয়েও হাল ছাড়েননি, বরং লেগে থেকেছেন। আর তাতেই পেয়েছেন নিজের স্বপ্নের চাকরি। গুগলে চাকরি পাওয়ার পর বর্তমানে লন্ডনই হয়ে উঠেছে তার কর্মস্থল। বর্তমানে সম্প্রীতির বার্ষিক বেতন ১.১০ কোটি টাকা। তবে তার পক্ষে কিন্তু চাকরিটা পাওয়া এতটাও সহজ ছিল না। কিন্তু বারবার ইন্টারভিউ দিয়ে বাতিল হওয়ার পরেও প্রতিটি ব্যর্থতা তাঁকে আরও ভাল করার প্রেরণা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সম্প্রীতি।
চাকরি পাওয়ার পরে সংবাদমাধ্যমে সম্প্রীতি বলেছেন, ‘‘অনেক সময়েই ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে নার্ভাস লেগেছে। তবে হাল ছাড়িনি। পরিবারের লোকেরা এবং বন্ধুবান্ধবরা পাশে থেকেছেন। আর তাতেই নার্ভাস না হয়ে প্রতিটি ইন্টারভিউ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দিতে পেরেছি।’’ পাশাপাশি সম্প্রীতি জানিয়েছেন বারবার ইন্টারভিউ দিয়ে বাতিল হওয়ার মধ্যেও অনেক কিছু শেখার রয়েছে। সেইসাথে তিনি জানান, পরের বার কী করে সফল হওয়া যায় সেই শিক্ষাই প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে নিয়েছেন তিনি।
এভাবেই একদিন ২০২১ সালে দিল্লি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সম্প্রীতি চাকরি পেয়ে যান গুগলে। আপাতত তার কর্মস্থল লন্ডন। প্রসঙ্গত কাজে যোগ দেওয়ার আগে সম্প্রীতি বলেন, ‘‘প্রত্যেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের (Software Engineer) কাছেই গুগলে (Google) চাকরি পাওয়াটা স্বপ্নের মতো। কারণ, এটাই বিশ্বের সেরা টেক-ফার্ম। সেই চাকরি এবং লন্ডনের অফিসে যোগ দেওয়া আমার কাছে খুবই আনন্দের। এটা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।’’