গসিপগানবিনোদন

জানোয়ারগুলো একটু খাবারও আনে না! খিদের জ্বালায় দিন কাটছে, রানু মন্ডলের দুঃখের কথায় চোখে আসবে জল

রানু মণ্ডল (Ranu Mondal), নামটা বাচ্চা থেকে বুড়ো সকলেরই চেনা। রানাঘাটের স্টেশন থেকে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ার জেরে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সোজা মুম্বাইয়ের ঝাঁ চকচকে জগতে মিলেছিল এন্ট্রি। কিন্তু সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাতারাতি যেমন জনপ্রিয়তা এসেছিল, তেমনি অহংকার এর বশে সবটাই হারিয়েছেন। ভাগ্যের পরিহাসে রানু মন্ডল আবারও ফিরেছেন রানাঘাটের সেই ভাঙাচোরা বাড়িতেই।

তবে, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে রানু মন্ডল কিন্তু এখনো ভাইরাল। মাঝেমধ্যেই বিভাস মন্তব্য থেকে শুরু করে কখনো গান তো কখনো নাচের ভাইরাল ভিডিও দেখা যায় রানু মন্ডল কে নিয়ে। কিন্তু ভাইরাল হয়ে আদতে কি কোন লাভ হয়েছে রানু মণ্ডলের? কেন ভিডিওতে রেগে যেতে ও বেফাঁস মন্তব্য করতে দেখা যায় তাকে?

Ranu Mondal

আসলে ভাইরাল হওয়াটা যেমন স্বপ্নের মত সুন্দর ছিল, ভাইরাল হওয়ার পরের সময়টা ঠিক তাঁর উল্টো হয়ে গিয়েছে। আগে যেখানে স্টেশনে ভিক্ষা করে দিন চলে যেত কোনোমতে। কিন্তু এখন ভাইরাল হওয়ার পরেও কাজ তো নেই, উল্টে ভিক্ষা করতেও যেতে পারছেন না। যার ফলে খাবার টুকু জোটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। কোনোদিন খাবার জোটে তো কোনোদিন জোটে না পেতে গামছা বেঁধেই কাটাতে হয়।

রানাঘাটের ভাঙা বাড়িতে প্রতিদিনিই রানু মন্ডলের সাক্ষাৎকার থেকে তাঁর সাথে আড্ডা, তাঁর গান শোনার জন্য ইউটিউবারদের ভিড় লেগেই থাকে। তাতে কখনো দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায় তো কখনো তাদের সাথে গানের আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা যায়। তবে সম্প্রতি এক সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে নিজের দুঃখের কথা প্রকাশ করলেন রানু মন্ডল।

রানু মন্ডল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সারাদিন লোকে আসতেই থাকে স্নান করতে পর্যন্ত যেতে পারি না। সেই জন্যই গেটে তালা দিয়ে রাখতে হয়। সকালে একটু চা বিস্কুট খেয়েই কাটাতে হয়। দুপুরে কোনোদিন ৫ টাকার ম্যাগি খেয়ে কাটাতে হয়, ভাত খাওয়া হয় না। রাতের তো আরও খারাপ, অর্ধেক দিন রাতের খাবারটুকুও জোটে না। ‘খিদের জ্বালায় পেট যে চোঁ চোঁ করে, পেটে না খেলে গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোবে কি করে?’

Ranu MOndal angry

রানু মন্ডল জানান, সবার গান শোনার শখ! সারাদিন বাড়িতে ভিড় লেগেই থাকে। অথচ জানোয়ার গুলো একটু খাবার আনে না! সবার শুধু ভিডিও করে লাইক বাড়ানোর ধান্দা। ইউটিউবারদের কারণে মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় হয় তার। অনেকেই ভিডিওতে তাকে কাউকে ঝাঁটা নিয়ে তাড়া করতে তো কাউকে গায়ে থুতু দিয়ে দেন তিনি।

রানু মন্ডলকে ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ পর্যন্ত বলেছেন অনেকেই। কিন্তু এভাবে অতিষ্ট করলে কি করবেন তিনি! এর আগেও নিজের বায়োপিকের জন্য গান রেকর্ডিংয়ের পর সাক্ষাৎকারে এই কথা জানিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে কারোর ওপরেই ভরসা করেননা তিনি, ভাজা বাড়িতে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন লতাকন্ঠী রানু মন্ডল।

Related Articles

Back to top button