সত্তর থেকে আশির দশকে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন নীতু সিং। নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে দর্শকদের একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন অভিনেত্রী। রুপোলি পর্দায় তার সাথে ঋষি কাপুরের রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯৭৪ সালে ‘জেহরিলা ইনসান ‘ ছবির সেটে প্রথম দেখা হয় তাঁদের। এরপর একসঙ্গে তাঁরা কাজ করেছেন অনেক ছবিতেই ।
‘কভি কভি’, ‘খেল খেল মে’, ‘দুসরা আদমি’, ‘ধন দৌলত’, ‘রফু চক্কর’, এবং ‘অমর আকবর এবং অ্যান্টনি’-তে এই জনপ্রিয় জুটির অভিনয় মন জয় করে নিয়েছিল দর্শকদের। প্রথম থেকেই ঋষি কাপুর তাঁর জীবনের লম্বা সফরে বরাবরই পাশে পেয়েছিলেন বন্ধু তথা স্ত্রী নীতু সিং-কে। যার সমাপ্তি ঘটেছে ২ বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালে ঋষি কাপুরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
১৯৮০ সালে ২২ জানুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এই জুটি। সে সময় নীতু ছিলেন সাফল্যের একেবারে মধ্যগগনে। তবে বিয়ের পর থেকে মাত্র ২১ বছর বয়সেই বরাবরের মত সিনেমার পাট চুকে যায় নীতু সিংয়ের। কাপুর পরিবারের পুত্রবধূদের বিয়ের পর সিনেমায় অভিনয় করা বারণ ছিল। তা নিয়ে একাধিক বিতর্ক থাকলেও অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় ছবি ছেড়েছেন এবং তিনি সংসারে বেশি সময় দিতে চান।
তবে বিয়ের পর পরবর্তীকালে অভিনেত্রী কে বেশ কিছু সিনেমায় ছোট খাটো চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। তবে সে সবই নাকি নিজের ইচ্ছেতে করেননি নিতু। স্বামী ঋষি কাপুরকে খুশি করতেই নাকি সেসময় ওই সব ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী। তবে এই মুহূর্তে তাঁর হাতে যুগ যুগ জিয়ো মতো ছবি রয়েছে, এছাড়াও বর্তমানে নাচের রিয়্যালিটি শো ‘ডান্স দিওয়ানে জুনিয়র্স’-এ বিচারক হিসেবেও উপস্থিত থাকছেন ঋষি-ঘরনি।
সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ঋষি কাপুরের স্মৃতি চারণা করতে গিয়ে বলেছেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে পরবর্তীতে বেশ কিছু ছবি আমি করেছি। ও এসে আমায় বলত চল এই ছবি করা যাক। আমি নিজের ইচ্ছায় এই ছবিগুলি করিনি। তবে যুগযুগ জিও নিজের ইচ্ছেতে করেছি।” এখন আর ঋষি কাপুর নেই। তাই একাকীত্ব যাতে তাঁকে আর গ্রাস করতে না পারে তাই ৬০ পেরিয়ে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে আবার ক্যামেরার সামনে ফিরতে ছেন নীতু। তাই অভিনেত্রী জানিয়ে “এখন আমার হৃদয় বলছে, চল কাজ করা যাক। আমি ব্যস্ত থাকতে চাই। আমি একা থাকতে চাই না। অতীতকে ভুলে থাকতে চাই।”