খবর

টোকিও অলিম্পিকে পদক জিতে বিশ্ব রেকর্ড এক সময়ের কাঠ কুড়ানি মীরাবাঈ চানুর

টোকিও অলিম্পিক্সের (Tokyo Olympics) দ্বিতীয় দিনেই পদক (Medal) জিতে ফের একবার  বিশ্বের সামনে ভারতকে শ্রেষ্ঠত্বের আসন এনে দিলেন ভারতীয় কন্যা মীরাবাই চানু (Mirabai Chanu)। আসমুদ্রহিমাচল গোটা ভারতবাসীর কাছে আজকের দিনটা শুধু ঐতিহাসিকই নয় এক দারুণ গর্বেরও দিন। অধরা স্বপ্ন কে সত্যি করে ৪৯ কেজি বিভাগে রুপো জেতা এই মীরাবাঈ -এর কাহিনীকাহিনীটাও নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা যোগাবে যে কোনো সাধারণ মানুষের মনে।

মাত্র ২৬ বছর বয়সেই টোকিও অলিম্পিকসে প্রথম বারের জন্য রূপো জিতে আজ বিশ্ব রেকর্ড করেছেন মীরাবাঈ চানু। তবে আজ তাঁর ঠোঁটের কোণায় যে চওড়া হাসিটা ঝুলছে তা এতটাও সহজে আসেনি। ব্যার্থতা থেকে অবসাদ একসময় সবকিছুই জাঁকিয়ে বসেছিল তাঁর মধ্যে। কিন্তু খেলোয়াড়রা বোধ হয় এমনই হয় জেতা ম্যাচ হেরে গিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে ম্যাচ ছাড়লেও অসম্ভব মনের জোর নিয়ে দুরন্ত কামব্যাক করতে পিছপা হন তাঁরা। একথাই ফের একবার প্রমাণ করলেন ভারতীয় কন্যা মীরাবাঈ চানু। আর দাঁড়িয়ে দেখল, বাহবা দিল গোটা বিশ্ব। আর সবটা দেখে গর্বে মাথা উঁচু করল ভারতবর্ষ।

Meerabai Chanu indian athlete wins silver medal in Tokyo Olympics 2021

অথচ আজ থেকে পাঁচ বছর আগে ২০১৬-র রিয়ো অলিম্পিক্সের দ্বিতীয় দিনেই চোখের জলে বিদায় নিয়েছিলেন জীবনের প্রথম অলিম্পিক্স থেকে। সেবার ক্লিন এবং জার্ক বিভাগে তিন বারই ওজন তুলতে ব্যর্থ হন চানু। ফলে তাঁর নামের পাশে কোনও সংখ্যা ছিল না। ইভেন্ট শেষ করতে না পারায় তাঁর নামের পাশে লেখা ছিল ‘ডিএনএফ’, অর্থাৎ , সেই ইভেন্ট শেষ করতে পারেননি তিনি।

Meerabai Chanu indian athlete wins silver medal in Tokyo Olympics 2021

শুধু তাই নয় ইভেন্টের কোমরে এমন চোট পেয়েছিলেন যার জেরে একসময় ডুবতে বসেছিল গোটা কেরিয়ার। মানসিক দিক দিয়ে ভেঙে পড়ে শেষমেশ গিয়েছিলেন মনোবিদের কাছে। আর তার পরেই বছরেই ঘটে যায় সেই দুরন্ত কামব্যাক। ২০১৭-র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছিলেন তিনি। ব্যস তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। জয়ের ধারা অব্যাহত মীরাবাঈয়ের।

মণিপুরের ইম্ফলের প্রত্যন্ত গ্রাম নংবক কাকচিং গ্রামে ১৯৯৪ সালে ৮ অগস্ট জন্ম হয় ভারতের এই মহিলা ভারোত্তোলকের। জ্বালানির জন্য বনে কাঠ কাটতে যেত চানুর পরিবার। সেইসূত্রেই সে নিজেও ওই অল্প বয়সেই ভারী ভারী কাঠ বয়ে আনতে। পরবর্তীতে বাবা মায়ের ইচ্ছেতেই মাত্র ১২ বছর বয়সে ভর্তি হয়েছিলেন ভারোত্তোলনে। আর আজ তাঁর সাফল্যে আনন্দে মেতেছে গোটা দেশ। এদিন টুইটে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) এবং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ (President Ramnath Kobind) ।

Related Articles

Back to top button