গসিপবিনোদনসিনেমা

একাধিক নারী সঙ্গ থেকে মদ খেয়ে স্ত্রীকে অত্যাচার, নিজের দোষেই টলিউডের কেরিয়ার শেষ লোকেশ ঘোষের

টলিউডে (Tollywood) ৯০ এর দশকে একাধিক এমন অভিনেতা ছিলেন যাদের  বর্তমানে আর দেখা মেলে না। এমনই একজন অভিনেতা হলেন লোকেশ ঘোষ (Lokesh Ghosh)। একসময় টলিউডের একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। নিজের অভিনয়ের জন্য বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছিলেলন দর্শকদের কাছে। তবে বর্তমানে আর অভিনয়ের জগতে দেখা মেলে না অভিনেতার। এমনকি আধুনিক যুগের সোশ্যাল মিডিয়াতেও খোঁজ মেলে না তাঁর।

তাহলে কোথায় হারিয়ে গেলেন লোকেশ ঘোষ?  আর ভালো অভিনয় করা সত্ত্বেও কেনই বা হারিয়ে গেলেন তিনি! আজ তাঁর সম্পর্কেই কিছু তথ্য জানাবো আপনাদের। যদিও আজকালকার তারকাদের মত একেবারেই নন লোকেশ ঘোষ। যেখানে আধুনিক যুগে সবাই জনপ্রিয়তা আর খ্যাতির পিছনে দৌড়াচ্ছে সেখানে কোনো রকম প্রচারে নেই তিনি।

যেমনটা জানা যাই লোকেশ ঘোষের ছোটবেলা কেটেছে মুম্বাই শহরে। ছোট থেকেই অভিনয়ের ভুত চেপেছিল মাথায়। মুম্বাইতে বেশ কিছু ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে কাজ করেছিলেন। কিন্তু খুব একটা জনপ্রিয়তা বা অভিনয়ের ভালো সুযোগ পাননি। তাই সেখান থেকে বেরিয়ে এসে উড়িষ্যা ও বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেন। টলিউডে নিজের অভিনয়ের জন্য জনপ্রিয়তা পান অভিনেতা।

১৯৯৬ সালে ‘নাচ নাগিনী নাচ রে’ ছবির মধ্যে দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন টলিউডে। এরপর একেরপর এক সুপার হিট ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে গুন্ডা, শ্রীমান ভূতনাথ, রাখি পূর্ণিমা এই ছবিগুলিতে তাঁর অভিনয় আজও মনে রেখেছে দর্শকেরা। যাঁরা অভিনেতার ছবিগুলি দেখেছেন তাঁরা নিশ্চই জানেন বেশিরভাগ ছবিতে অভিনেত্রী চুমকি চৌধুরীর (Chumki Chowdhury) সাথে জুটি বাঁধতে দেখা গিয়েছে তাকে।

বিখ্যাত টলিউডের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর বড় মেয়ে চুমকি চৌধুরী। ছবিতে একসাথে অভিনয়ের সূত্রে চুমকি চৌধুরীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয় অভিনেতার। এমনকি বিয়েও করেন দুজনে। কিন্তু বিয়ের সম্পর্ক খুব বেশিদিন টেকেনি। সিনেমায় নায়ক হলেও বাস্তবে ছিলেন আস্ত মদ্যপ। সর্বদাই নেশার ঘোরে থাকতেন, এমনকি স্ত্রী চুমকির ওপর হাত পর্যন্ত তুলতেন। যার ফলে বিয়েটা আর টেকেনি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল।

এরপর অঞ্জন চৌধুরীও তাকে নিজের কোম্পানি থেকে বহিস্কার করে দেন। ২০১৩ সালে ‘ভগবানের মাথায় হাত’ ছবিতে শেষ দেখা গিয়েছিল লোকেশ ঘোষকে। এরপর থেকে বড়পর্দা বা ছোট পর্দা কোথাওই দেখা মেলেনি অভিনেতার। মাঝে গুঞ্জন রটেছিল অভিনেতার এক বান্ধবী তাঁর নাম পুলিশে ডাইরি করেছিল।

কারণ তিনি ওই মহিলাকে পেট ব্যাথার কথা বলে  নিজের ফ্ল্যাটে ডাকেন ও সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন একাধিক মহিলার সাথেই সম্পর্ক রয়েছে অভিনেতার। তারপর দুজনের মধ্যেই কথা কাটাকাটি শুরু হলে শেষ পর্যন্ত মারামারি হয়। এরপরেই অভিনেতার  নাম কসবা থানায় নালিশ করেন তাঁর  বান্ধবী। এরপর থেকে আর সেভাবে কোনো খোঁজ মেলেনি লোকেশ ঘোষের।

Related Articles

Back to top button