খবরভাইরাল

ফুচকা দিয়েই বাজিমাত! জ্যোতির্ময়ীর ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্নে ইন্ধন যোগাচ্ছে ‘ফুচকাওয়ালা’

করোনা মহামারীর প্রকোপে লকডাউনের জেরে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বহুদিন ঘরেই বন্ধ সমস্ত দোকান পাঠ, তবে সব বন্ধ থাকলেও খিদের তো আর লকডাউন হয় না। কথায় আছে বাঙালি মানেই ভোজনরসিক, এই কথাটা কিন্তু একেবারেই সত্যি কথা। বিকেল হোক বা সন্ধ্যে বাঙালিদের একটা বড় অংশ ফুচকা খেতে বেশ ভালোবাসে। আর লকডাউনে ঘরবন্দি হয়ে ফুচকা খাবার ইচ্ছা পূরণের জন্য নেমে পড়েছেন কিছু মানুষ। পাশাপাশি ফুচকা বিক্রি করেই চলছে তাদের সংসার।

ফুচকা মানেই আমরা বুঝি ফুচকাওয়ালা অর্থাৎ কোনো ছেলে বা কাকু যে কিনা ফুচকার ভান্ডার নিয়ে হাজির হয়। কিন্তু এবার এই সংজ্ঞাটা খানিকটা বদলে দিয়েছে খড়দহের মেয়ে জ্যোতির্ময়ী সাহা। সে আর তার দাদা মিলে শুরু করেছে একটা ছোট্ট ফুচকার দোকান ‘ফুচকাwala’ যেখানে ফুচকা বিক্রি করে নিজেদের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলেছে তারা। আজ তাদের কথাই জানাবো বংট্রেন্ডের পর্দায়।

ইঞ্জিনিয়ারিয়ের ছাত্রী জ্যোতির্ময়ী ইচ্ছা আছে একদিন B.Tech হয়ে বড় কোম্পানিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবার। কিন্তু গতবছর অর্থাৎ ২০২০ সালে লকডাউনে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছিলেন তখনই চিন্তার কালো মেঘে ঢেকে যায় তাদের পরিবার। জ্যোতির্ময়ীদের দাদা দেবজ্যোতি সাহা চাকরি করে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে। লকডাউনে তার মাইনে অর্ধেক হয়ে যায়। স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তা বেড়ে যায় সকলেরই।

সম্বল বলতে ছিল বাবার একটি মুদিখানার দোকান যেটা বিগত ১০ বছর ধরে বন্ধ ছিল।অনেক চেষ্টা করে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু ২-৩ মাসের বেশি চালানো সম্ভব হয়নি। তবে হার মানেনি তারা দুজন দাদা দেবজ্যোতি ইচ্ছা ছিল নতুন করে  কিছু একটা করার। শেষে ঠিক হয় ফুচকার দোকান দেবে তারা, ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন ছেড়ে ফুচকাওয়ালী হবে সে। নতুন এই আইডিয়া শুনে প্রথম দিকে অনেকেই হাসাহাসি করেছিল। পাড়ার লোক থেকে শুরু করে অনেকেই কটূক্তি করেছিল, ইঞ্জিনিয়ারিং করে শেষমেশ ফুচকার দোকান! তবে সেই সমস্ত দমে যায়নি তারা।

খড়দহের বাজারের সেই মুদিখানার দোকানেই শুরু হয় ফুচকা বিক্রি। না কোনো ফুচকাওয়ালা নয় এই ফুচকার দোকান সামলায় এক মেয়ে ফুচকাওয়ালী। আজ আটমাস হতে চলেছে তাদের ফুচকার দোকান বেশ ভালোভাবেই। অনেক মানুষ তাদের ফুচকা খেয়েছেন আর তাদের ভালোবাসা সাথে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে সে। ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন সে পূরণ করবেই তবে ফুচকাকে কোনোদিন ভুলবে না সে। কারণ তার আজ যা কিছু আছে তার পেছনে ফুচকার অবদান রয়েছে অনেকটাই। এমনকি ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্নের পাশাপাশি আরো একটা নতুন স্বপ্ন দেখে সে,ফুচকার দোকানটিকে আরও বড় করে একটা ব্র্যান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে তোলার স্বপ্ন।

একটা সময় ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন আদৌ পূরণ হবে কিনা সেবিষয়ে চিন্তা শুরু হয়েছিল। আজ সেই স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি আরেক স্বপ্নপূরণে এগিয়ে চলেছে ‘ফুচকাwala’। তবে এবার আর মনে কোনো দ্বিধা নেই, কারণ তারা জানে মানুষের ভালোবাসা পাশে আছে তাদের। পাশাপাশি সমাজের চোখে এক নতুন দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছে জ্যোতির্ময়ী ও তার দাদা দেবজ্যোতি। তাদের আগামী জীবনের জন্যই রইল শুভ কামনা।

Related Articles

Back to top button