খবরভাইরাল

বাবা ছিলেন মুচি নিজে ডিম বিক্রি করতেন! অদম্য ইচ্ছা শক্তির জেরে বীরেন্দ্র আজ সফল অফিসার

কথায় আছে কিছুলোক নিজের হাতেই নিজের ভাগ্য লেখেন। বীরেন্দ্র কুমার (Birendra Kumar) এই প্রবাদ বাক্যটাকেই যেন আবারো প্রমাণ করে দিলেন। বিহারের (Bihar) বাসিন্দা বীরেন্দ্র কুমারের কাহিনী হাজারো মানুষের বুকে অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলছে আজ। বীরেন্দ্র বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) পরীক্ষায় দারুন সাফল্য পেয়েছেন। পরীক্ষায় দুর্দান্ত র‌্যাঙ্ক করে আজ তিনি ব্লক সাপ্লাই অফিসার।

সত্যি বলতে কি বীরেন্দ্রর এই সাফল্য পাবার পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জেরেই এই সাফল্য হাতে মুঠোয় করতে পেরেছে সে। বীরেন্দ্রর বাবা ছিলেন পেশায় একজন মুচি। জুতো সেলাই করেই বীরেন্দ্র ও আরেকভাইকে মানুষ করতেন। অভাব অনটনের মধ্যেও ছেলেদের পড়াশোনা চালানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতেন তিনি।

কিন্তু ২০১২ সালে মারা যান বাবা। এরপর সংসারের হাল ধরতে ডিম বিক্রি শুরু করে ছিলেন বীরেন্দ্র। তবে হাল ছাড়েননি, নিজের পড়াশোনার প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন অবিরাম। ভাইকে ব্যবসার কাজ শিখিয়েছেন, এরপর ভাইয়ের ব্যবসা পরিস্থিতি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। পাঁচ বছর সময় লেগেছে ভাইয়ের ব্যবসা দাঁড় করাতে।

এই সময় রাজীব স্যার ও ইন্টারনেটকেই শিক্ষাগুরু করে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে গিয়েছেন। এরপর পরীক্ষায় প্রথম বারের চেষ্টাতেই মিলেছে সাফল্য। আসলে চেষ্টা আর কঠোর পরিশ্রমের ফল ঠিকই মিলবে। বীরেন্দ্র আজ ব্লক সাপ্লাই অফিসার হয়ে গিয়েছেন। আর তার এই কঠিন পরিশ্রম করে সাফল্য অর্জনের কাহিনী আজ বহু মানুষের অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বীরেন্দ্র গ্রামের সরকারি স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন। এরপর আওরঙ্গাবাদের দাউদনগর কলেজ থেকে স্নাতক হয়েছিলেন। বীরেন্দ্রের মতে সাফল্য অর্জনের পথে হাজারো বাধা বিপত্তি আসবে। তবে পিছপা হলে চলবে না। মনে রাখতে হবে কোনো কিছু পেতে গেলে কষ্ট করতে হবে পরিশ্রম করে তবেই সেটা অর্জন করে  নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, বীরেন্দ্র এবছরের জানুয়ারি মাসে তার মাকে হারিয়েছেন। বীরেন্দ্রের পরিবারে তিনিই প্রথম সরকারি চাকরি পেলেন। কিন্তু তার একটা আফসোস সারা জীবনের জন্য রয়েই গেল। তাকে একজন সরকারি অফিসার হিসেবে দেখে যেতে পারলেন না মা।

Related Articles

Back to top button