গসিপবিনোদনসিনেমা

বিয়ের আগে সঙ্গম তারপর গর্ভবতী, সমাজের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন এই বলি অভিনেত্রীরা

বলিউড (Bollywood) অভিনেত্রী আলিয়া ভাট গর্ভবতী হওয়ার সংবাদ ঘোষণা করার পর থেকেই সকলের মুখে সেই একটি বিষয় নিয়েই চর্চা লেগে রয়েছে। আলিয়া কি তবে বিয়ের আগেই গর্ভবতী হয়ে গিয়েছিলেন? সেই কারণেই কি প্রেমিক রণবীর কাপুরের সঙ্গে তড়িঘড়ি বিয়ে করেছেন তিনি? সকলের মনে-মুখে ঘুরছে এই একটি প্রশ্ন।

অপরদিকে আবার, আলিয়ার গর্ভাবস্থা নিয়ে যেমন অনুরাগীদের চর্চা থামার নাম নেই, তেমনই আবার বি-টাউনের দুই নামকরা অভিনেত্রী, দীপিকা পাড়ুকোন এবং ক্যাটরিনা কাইফের বিয়ে হয়েছে অনেকটা সময় হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁরা এখনও পর্যন্ত সন্তানের মুখ দেখেননি তা নিয়েও নেটিজেনদের আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে তো আবার এই দুই বলি সুন্দরীকে রীতিমতো ট্রোল করতেও শুরু করে দিয়েছেন।

Alia Bhatt pregnent after 2 months what about deepika katrina netizen starts trolling

একইরকমভাবে বলিউডের বহু নায়িকা যখন বিয়ের আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছিলেন, তখনও নীতি শিক্ষা দিতে এসেছিলেন অনেকে। সেই অভিনেত্রীদের তালিকায় নাম রয়েছে, নীনা গুপ্তা, নেহা ধুপিয়া, দিয়া মির্জা, সারিকা, নাতাশা স্ট্যানকোভিচ, শ্রীদেবী, কল্কি কেঁকলা-সহ বহু খ্যাতনামা অভিনেত্রীর।

একাধিক নামী সমাজতাত্ত্বিকের মতে, আমাদের এই তথাকথিত সমাজের সমস্যা হল, সামনে থেকে মহিলাদের নিয়ে প্রচণ্ড উদারমনস্কতা দেখালেও, কোথাও একটা গিয়ে তাঁদের বিষয়ে এখনও সেই কয়েক শতক পুরনো নিয়মই মানা হয়। বিয়ের আগে গর্ভবতী হয়ে গেলেও যেমন তাঁদের পুরুষ সঙ্গীকে নয়, বরং তাঁকেই  নিশানা করা হয়, তেমনই আবার বিয়ের বেশ কয়েক বছর পরও সন্তানের মুখ না দেখলেও ‘টার্গেট’ করা হয় তাঁদেরকেই।

Neha Dhupia

বলি পাড়ায় অবশ্য এমন বহু অভিনেত্রী রয়েছেন, যারা এই ধরণের বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন। নিজেদের বক্তব্য রাখেন। সেই তালিকায় নাম রয়েছে, শাবানা আজমি থেকে শুরু করে দিয়া মির্জা, টিসকা চোপড়ার মতো শিল্পীদের। শাবানা যেমন একবার বলেছিলেন, কীভাবে তারকাদের প্রত্যেক পদক্ষেপের ওপর অনুরাগীদের কড়া নজর থাকে। কীভাবে সেই কারণে তাঁদের ক্রমাগত চর্চা এবং কটাক্ষের শিকার হতে হয়।

Shabana Azmi

শিল্পীদের একাংশের মতে আবার, আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মানসিকতা বদলাতে হলে, পুরুষদের দিয়েই মহিলাদের সমানাধিকার, তাঁদের সম্মানের বার্তা প্রচার করাতে হবে। ঠিক যেভাবে, ‘পিঙ্ক’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের চরিত্রটি মেয়েদের অধিকারের জন্য লড়েছিলেন এবং সঙ্গেই ‘নো মিনস নো’এর পক্ষে বার্তা দিয়েছিলেন। ঠিক এভাবেই যদি বলিপাড়ার পুরুষরা যদি একটু এগিয়ে আসেন, তাহলে হয়তো নায়িকাদের লাঞ্ছনার সার্বিক চিত্রটা একটু বদলাবে বলেই মত তাঁদের।

Related Articles

Back to top button