ওয়েব সিরিজবিনোদন

ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত ! চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এই চার বিখ্যাত ওয়েব সিরিজ

একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিট্যাল মাধ্যমের (Digital Media) যুগে বিনোদনের (Entertainment) এক অন্যতম হাতিয়ার ওটিটি মঞ্চগুলি (OTT Platform)। এহেন সময়ে ওয়েব-সিরিজের (Web-series) বিষয়বস্তু বারংবার উঠে এসেছে খবরের শিরোনামে। অনলাইন মাধ্যমে যেমন পরিচালকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে, তেমনই বিতর্কের একটি নতুন দিকও খুলে গিয়েছে এই নয়া মাধ্যমের দৌলতে। রাজনীতি হোক বা ধর্ম, সকল বিষয়েই বিতর্কমূলক ওয়েব-সিরিজের নাম কমবেশি জানেন ওটিটি দর্শকরা।

ফ্যামিলি ম্যান ২ (family man 2)

The Family Man Amazon Prime

সম্প্রতি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিয়োয় (Amazon Prime Video) মুক্তি পেয়েছে ‘ফ্যামিলি ম্যান’-এর দ্বিতীয় অধ্যায় (Family Man 2)। প্রথম সিজনে কাশ্মীরের অন্তর্ঘাত এবং ভারতের বিচারব্যবস্থার গলদের বিষয়ে সরাসরি তুলে ধরা হলে তা বিতর্কের জন্ম দেয়। যদিও এইবারের দ্বিতীয় সিজনে যেভাবে শ্রীলঙ্কান তামিলদের (Eelam Tamils) কথা তুলে ধরে শ্রীলঙ্কা-দক্ষিণ ভারতের অন্তর্বর্তী সমস্যাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, তাতে তামিলনাড়ু সহ গোটা শ্রীলঙ্কা জুড়েই ছড়িয়েছে ক্ষোভ। একজন তামিল বিদ্রোহীর (Tamil Rebel) ভূমিকায় সামান্থা আক্কিনেনি (Samantha Akkineni) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসারের ভূমিকায় মনোজ বাজপেয়ীর (Manoj Bajpayee) অভিনয় নজর কেড়েছে সকলেরই।

তান্ডব (Tandav)

সাইফ আলী খান তাণ্ডব Saif Ali Khan Tandav

অন্যদিকে আলী আব্বাস জাফরের ওয়েব-সিরিজ ‘তান্ডব’-এর প্রথম পর্ব মুক্তি পাওয়ার পরই ক্ষোভ দানা বাঁধে দর্শকমহলে। ১ম পর্বে মহম্মদ জিশান আয়ুবকে (Mohammed Zeeshan Ayyub) হাতে ডমরু নিয়ে কলেজের অনুষ্ঠানে অভিনয় করতে দেখা যায়। মঞ্চে হিন্দু ভগবান শিবের ভূমিকায় অভিনয় করাকালীন কটুভাষার প্রয়োগ করেন আয়ুব। স্বভাবতই এরপরে ট্যুইটারে ‘তান্ডব’ ব্যান (Ban) করার দাবিতে ঝড় তোলেন নেটিজেনরা। অবশেষে একরকম বাধ্য হয়েই কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক ওটিটি মঞ্চের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে সকল অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়। ঘটনাচক্রে আলী আব্বাস জাফর বিবৃতি মারফত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভাবাবেগে আঘাত হানার জন্য ‘তান্ডব’-র সকল কর্মীবৃন্দের তরফে ক্ষমা চেয়ে নেন।

স্যাক্রেড গেমস (Sacred Games)

ভারতীয় ওয়েব-সিরিজের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে অন্যতম বিখ্যাত সিরিজ হল নেটফ্লিকসের (Netflix) ‘স্যাকরেড গেমস’ (Sacred Games)। দুই সিজনেই বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছে স্যাকরেড গেমস। রাজনৈতিক নেতৃত্বদের সরাসরি কটাক্ষের কারণে প্রথম পর্ব নিয়ে বিতর্ক হলেও দ্বিতীয় পর্বে ‘স্যাকরেড’ কর্মীবৃন্দ আইনি জটিলতায় পড়েন। শিখদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার জন্য এক বিজেপি (BJP) শীর্ষনেতৃত্ব ‘স্যাকরেড’ পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের নাম মামলা করে বসেন। সইফ আলী খানের (Saif Ali Khan) কাদায় পাগড়ি ছুঁড়ে ফেলার দৃশ্য যে শিখদের কাছে কুরুচিকর ও অবমাননাকর, সে প্রসঙ্গে সোশ্যাল মঞ্চে (Social Media) মন্তব্য করেন সাংসদ মাজিন্দার এস শীর্শা (MLA Manjinder S Sirsa)।

লেইলা (Leila)

ওয়েব-সিরিজের জগতে অপর এক অপেক্ষাকৃত অচেনা সিরিজের নাম হল ‘লেইলা’ (Leila)। নেটফ্লিকস (Netflix) প্রযোজিত ও দীপা মেহতা (Deepa Mehta) পরিচালিত ‘লেইলা’-র মুখ্য চরিত্র শালিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন হুমা কুরেশি (Huma Qureshi)। গল্প অনুযায়ী, একজন মুসলিমকে বিবাহ করার ‘অপরাধে’ শ্রমিক ক্যাম্পে নিক্ষেপিত হন শালিনী। ‘লেইলা’-র ট্রেলার নিয়েই এমন হইচই শুরু হয় যে মুক্তি পাওয়ার আগেই সিরিজটি প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। বহু নেটিজেন এহেন সিরিজকে ‘হিন্দুবিরোধী’ (Anti-hindu) বলেও দাগিয়ে দেন! বহু সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলিও এই সিরিজ বন্ধ করার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে।

Related Articles

Back to top button