সত্যিই দুর্ঘটনা নাকি সাজানো মিথ্যে! সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে বিস্ফোরক নোবেল


নোবেল ম্যান (Noble Man) যাকে এক ডাকে দুই বাংলার লোক নোবেল বলেই চেনে। ভারতীয় বাংলা বিনোদন চ্যানেলে নোবেলের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স জনপ্রিয়তার এমন এক শিখরে পৌঁছেছে যে বাংলা গানের জগতে আবির্ভাব ঘটেছে এক নক্ষত্রের। গত ২২শে এপ্রিল পথ দুর্ঘটনায় ‘গুরুতর’ আহত হয়েছেন ‘সারেগামাপা’ খ্যাত বাংলাদেশের কণ্ঠশিল্পী নোবেল। নোবেল জানান, ‘এক বয়স্ক লোক অসতর্কভাবে রাস্তা পার হচ্ছিলো। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার এই অবস্থা। তবুও মনে তৃপ্তি অনুভব করছি, কারণ লোকটা নিরাপদ আছে। আর আমি আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি’।

কিন্তু মুশকিল হল নোবেলের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবি করছেন শোয়াইব বিন আহসান নামের এক প্রতক্ষদর্শী। শুধু তাই নয় এরপর নোবেলের সাথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করেন এক ব্যক্তি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে শোয়াইব নোবেলকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথালিখেছেন। লেখাটির অর্থ,’রাস্তার রং সাইড দিয়ে বাইক চালিয়ে চাইকেল চালককের ওপর দিয়ে বাইকটা চালিয়ে দিলে। রোজার মাসে লোকটি হয়তো সারাদিন অভুক্ত থেকে  ইফতার করত তাকে মৃত্যুমুখী করে দিলে। আর অন্য একজন বৃদ্ধকে বাঁচানোর গল্প শোনাচ্ছ! বাহ! কি সুন্দর মিথ্যাচার করতে করে আল্লার থেকে শুকরিয়া আদায় করছ’!

Noble Man

শোয়াইব জানান তিনি কোনো মিথ্যা কথা বলছেন না। দুর্ঘটনাটি তার বাড়ির কাছেই ঘটেছে, এবং তার বাড়ির সিসিটিভিতে সেই দুর্ঘটনার রেকর্ডিং রয়েছে। সেটা দেখলেই আসল সত্যি সকলের সামনে আসবে। তাঁর মতে, বছর ২ ৫কি ৩০ এর সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মেরেছেন নোবেল। কোনোমতেই বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা হয়নি।

শোয়াইব নামের এই ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে পরে। স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও এই নিয়ে লেখা লিখি হয়। বলতে গেলে আসল সত্যি সামনে চলে আসার পর খানিক চটে নোবেল ম্যান। দুর্ঘটনার ব্যাপারে একটি লম্বা ফেসবুক পোস্ট লিখেছেন নোবেল। যার বক্তব্য হল, ‘সে একজন  মানুষ। বিনোদন নিয়ে থাকে, কারোর তাকে পছন্দ কারোর আবার পছন্দ নয়। ছোট বেলায় সুডুকু খেলা ছাড়া নিউজ পেপার আমার কোনো দিন কাজে আসেনি। তবে, আমি নোবেল ম্যান যেহেতু জনপ্রিয় তাই আমায় নিয়ে খবর ছাপা হতেই পারে। তবে সব খবর বিশ্বাস করার মত নয়। তার জন্য দুঃখিত তিনি’।

এছাড়াও নোবেল আরো বলেন, ‘মাথায় ৩০টা সেলাই কেউ নিয়ে তামাশা করে না। আর আমি প্রকাশ্যে, অগোচরে এমনকি অবচেতনেও মিথ্যাচার করিনা। প্রকাশ্যে মিথ্যা বলতে পারলে এত সমালোচনা থাকতোনা। তবে সমালোচনা নিয়ে ইদানিং আর বিচলিত হইনা’। নোবেলের এই পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে নেটিজেনদের।