খবরবিনোদন

বলিউডের বিরুদ্ধে কোনো মানহানিকর সম্প্রচার যাতে না হয় তা নিশ্চিত করতে আদেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট

কিছুদিন আগেই বলিউডের (Bollywood) নাম কুৎসা রটানোর মত অভিযোগ দায়ের হয় দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court)। মামলা  করেছিল ৩৪টি বলিউড প্রযোজনা সংস্থা (Bollywood ProductionHouse) একত্রে। তাদের মতে বলিউড ইন্ডাস্ট্রি ও ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের মানহানি করা হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের সম্প্রচার গুলির মাধ্যমে।

বলিউড প্রযোজনা সংস্থাগুলি রিপাবলিক টিভি (Republic TV),টাইমস নাও (Times Now) এর মত সংবাদ মাধ্যম ও তাদের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে  অভিযোগ করেছিল। সেই মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট বলেছে সাধারণ মানুষ একটি গণমাধ্যম থেকে নিরপেক্ষতা আশা করে। সাথে খবরের সুস্থ প্রদর্শন। হাইকোর্ট আগেই সংবাদ মাধ্যমগুলোকে বলিউডের প্রযোজনা সংস্থার দায়ের করা অভিযোগের লিখিত বিবৃতি দিতে আদেশ দিয়েছিল।

যেভাবে বর্তমানে দেশের চতুত্থ স্তম্ভ  ব্যবহার করছে তাতে সাধারণ মানুষ  ভীত হয়ে পড়ছে চতুর্থ স্তম্ভের থেকে। সাধারণ মানুষের জীবনের গোপনীয় বিষয় টেনে তা একভাবে ব্যক্তিগত করা যায়না। এর ফলাফল ক্ষতিকর হতে পারে। ঠিক যেমন রাজকন্যা ডায়ানার ক্ষেত্রে হয়েছিল। মিডিয়ার হস্তক্ষেপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

এদিন আদালতে বিচারপতি বলেন যে সংবাদ মাধ্যমগুলোর কিছুটা ‘টোন ডাউন’ (Tone Down) হওয়া দরকার। কারণ তারা বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রসারণের আইনের উলঙ্ঘন করেছেন। যেমন রিপাবলিক টিভির সংবাদদিক অর্ণব গোস্বামী (Arnab Goswami) দাবি করেছেন বলিউডের নাকি পাকিস্তানের সাথে যোগাযোগ আছে। অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্ত শুরু হলে বলিউডে মাদককান্ডটি সামনে আসে। এরপরই মাদকের সাথে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি।

এছাড়াও বলিউডের অভিনেতা অভিনেত্রীদের প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ শব্দের ব্যবহার করেছে সাংবাদিকেরা। যেটা মোটেও তাদের থেকে কাম্য নয়। প্রযোজনা সংস্থার অভিযোগ অনুযায়ী বহু তারকাদের জীবনের এই অপপ্রচারের বাজে প্রভাব পড়েছে। তাদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বলিউডের কিছু গোপনীয়তা ও কিছু লোকের  জন্য গোটা ইন্ডাস্ট্রিকেই অপরাধী হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে মানুষের সামনে।

শেষমেশ এদিন রিপাবলিক টিভি ও টাইমস নাও কে দিল্লির হাই কোর্ট কোনোরকমের মানহানি জনক সম্প্রচার যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার আদেশ দিয়েছে। বিচারপতি সাধকের বলেছেন, ‘আমি এই মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যম ইউটিউবের সমস্ত অপপ্রচার ও মানহানিমুলক ভিডিও গুলি মুছে ফেলতে বলছি না। তবে এই বিষয়টি কিভাবে সমাধান করা যায় তা দেখতে হবে। সাথে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত’।

Related Articles

Back to top button