বিনোদনসিনেমা

‘প্রথমে তাপস,তারপর মিঠু’ একের পর এক কাছের মানুষদের হারিয়ে জীবন নিয়ে হতাশ দেবশ্রী রায়

‘এলেন,দেখলেন এবং জয় করলেন’–এমনই একজন মানুষ ছিলেন বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক চ্যাটার্জী (Abhishek Chatterjee)। বুধবার গভীর রাতে সবাইকে কাঁদিয়ে দিয়ে মাত্র ৫৭ বছর বয়সেই চিরঘুমের দেশে চলে গেলেন অভিনেতা অভিষেক চ্যাটার্জী। এদিন রাত রাত ১’ট ৪০ মিনিট নাগাদ ঘুমের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা।

জানা যায় দীর্ঘদিন ধরেই লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন অভিষেক। বেড়ে গিয়েছিল অতিরিক্ত ওজন। তবে শেষ কয়েকদিন নাকি তাঁর পায়ের শিরায় ভীষণভাবে টান ধরছিল। শারীরিক এই অসুস্থতার মধ্যেই টানা করে যাচ্ছিলেন সিরিয়ালের শুটিং। এদিন সেই খড়কুটো সিরিয়ালের শুটিং সেটেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। এরপরে সেখান থেকে তড়িঘড়ি বাড়ি নিয়ে আসি হয় তাকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।

Abhishek Chatterjee passes away
পুরনো স্মৃতি হাতড়ে এপ্রসঙ্গে এদিন টলিপাড়ার প্রথম সারির অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় (Debashree Roy) বলেছেন “মিঠু (Mithu) কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেই সেই প্রজন্মের ‘হার্টথ্রব’ (Heartthrob) হয়ে উঠেছিল। ভীষণ সুন্দর দেখতে ছিল তো! আমরা একসঙ্গে অনেক মাচাও করেছি। তখন দেখতাম, মেয়েরা ওকে একটু কাছ থেকে দেখবেন বলে, ছোঁবেন বলে কী পাগলামিই না করতেন!” একের পর এক কাছের বন্ধুদের হারিয়ে কার্যত বাকরুদ্ধ দেবশ্রী রায়। গভীর শোকের মধ্যেই এদিন সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছিলেন অভিনেত্রী।

গলায় একরাশ হতাশা নিয়ে অভিনেত্রী বলেছেন “প্রথমে তাপস (Tapas Pal) চলে গেল। তার পর মিঠু। চলে যাওয়ার মতো একেবারেই বয়স হয়নি ওদের। কিন্তু আচমকা ‘নেই’ হয়ে যাচ্ছে কাছের বন্ধুরা। খবরটা শোনার পর থেকেই মনখারাপ। অনেক স্মৃতি ভিড় করে আসছে। বুকের ভিতরটা কেমন যেন চাপ ধরে আছে। মাত্র ৫৭! মিঠু, এটা কি তোর চলে যাওয়ার বয়স?”

১৯৮৬ সালে তরুণ মজুমদার পরিচালিত ‘পথভোলা’ ছবি দিয়েই শুরু হয়েছিল টলিউডে পথচলা। সমসাময়িক বাংলার সুপারস্টারদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিলেন একাধিক সুপারহিট ছবি দর্শকদের উপহার দিয়ে। সেইসময় টলিপাড়ার অন্যতম হার্টথ্রব অভিনেতা ছিলেন অভিষেক। তবে পরবর্তীতে বড় পর্দা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন অভিষেক। পুরনো সেই বিতর্ক প্রসঙ্গে এদিন দেবশ্রী বলেন “বড় পর্দাতে ভাল ছাপ ফেলেছিল মিঠু। আচমকাই সরে দাঁড়াল। কেন সরে গেল, সেই বিতর্ক আজ থাক। মানুষটাই তো চলে গেল। মৃত্যুর পায়ের শব্দ যেন খুব কাছ থেকে শুনতে পাচ্ছি।”

Related Articles

Back to top button