বিনোদনসিনেমা

৩৭ বছর কেটে গেলেও মহুয়ার মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি বিপ্লব! বন্ধুর মৃত্যুদিনে আবেগপ্রবণ অভিনেতা

দেখতে দেখতে ৩৭ বছর পার হয়েছে প্রয়াত হয়েছেন বাংলার অন্যতম প্রতিভাবান মিষ্টি অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী (Mohua Roychowdhury)। ১৯৮৫ সালে ২২ জুলাই অর্থাৎ আজকের দিনেই তাঁর অকাল প্রয়াণে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল বাংলারবিনোদন জগতে। সেই অভিশপ্ত দিনের কথা আজও ভুলতে পারেননি অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় (Biplab Chatterjee)। পারবেনই বা কি করে! মহুয়া ছিলেন তার কাছে অত্যন্ত কাছের বন্ধু।তাই আজও এই বর্ষীয়ান অভিনেতা মেনে নিতে পারেননি মহুয়ার মৃত্যু।

বর্ষীয়ান অভিনেতার কথায় তার কাছে মহুয়া মানে আজও হুল্লোরে মেতে থাকা মিষ্টি একটা মেয়ে। অভিনেতার কথাতেই জানা যায় অভিনেত্রী নিজের হাতে রান্না করে নিয়ে আসতেন স্টুডিওতে। নিজের রান্না খাওয়াতে ভালোবাসতেন সকলকে। তবে সারাক্ষণ হুল্লোড়ে মেতে থাকা ফুলের মত মিষ্টি এই অভিনেত্রী পরিবারের অশান্তির কারণে চোখের জল আসলেও তা ফেলতেন সকলের আড়ালে। কিন্তু সেটা কারো সাথে কখনো  প্রকাশ করতেন না তিনি।

এমনটাই দাবি করেছেন রাতে অভিনেত্রীর বন্ধু তথা সহ অভিনেতা বিপ্লব চ্যাটার্জী। শুধু তাই নয়,উদার মনের এই অভিনেত্রীনাকি নিজের রোজগারের অনেক টাকাই তিনি  দান করেছেন অসংখ্য দুস্থ শিশুদের পড়াশোনায় কিম্বা হাতে দেখাশোনার কাজে।এছাড়াও তিনি দেখভাল করতেন স্টুডিও পাড়ার সমস্ত পথ পশুদের।  রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে সমস্ত কুকুরদের নিজের হাতে খাওয়ার দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের খেয়াল রাখা সব কিছুই করতেন অভিনেত্রী নিজে।

বিপ্লব চ্যাটার্জী জানিয়েছেন যেদিন স্টুডিওতে অভিনেত্রীর মরদেহ নিয়ে আসা হয় সেদিন রাস্তার সব কুকুররা নাকি সার বেঁধে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল সকলের। রাস্তার কুকুরদের প্রয়াত অভিনেত্রীর প্রতি এমন শ্রদ্ধা জ্ঞাপন দেখে সে সময় কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন স্টুডিওপাড়ায় উপস্থিত সকলে।


পরিচালক তরুণ মজুমদারের সিনেমা ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’ দিয়েই অভিনয় জগতে হাতেখড়ি হয়েছিল মহুয়ার।  তারপরে আর তাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে অভিনেত্রীকে অভিনয় জগতে আসার আগে থেকেই চিনতেন অভিনেতা  বিপ্লব চ্যাটার্জী। অভিনেত্রী হওয়ার আগে তার নাম ছিল শিপ্রা।

শ্রীমান পৃথ্বীরাজ করার পরেই পরিচালক তরুণ মজুমদার তার নাম পাল্টে রেখেছিলেন মহুয়া। বিপ্লব চ্যাটার্জির কথায় জানা যায় সত্যিকারেই ফুলের মতো মিষ্টি ছিলেন এই অভিনেত্রী। শুধু রূপে নয় গুণও ছিল অসামান্য। বাবা মায়ের থেকে পাওয়া বংশ পরম্পরায় নাচও করতে পারতেন দারুন। তবে অভিনেত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি বিতর্কিত হওয়ায় তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি অভিনেতা।

Related Articles

Back to top button