চলতি মাসের একেবারে শুরুতেই মা হয়েছেন দেশের কমেডি ক্যুইন ভারতী সিং (Bharti Singh)। তাঁর কোল আলো করে এসেছে একরত্তি পুত্র সন্তান। সেই থেকেই নিজেদের সদ্যজাত সন্তানকে একেবারে চোখে হারাচ্ছেন ভারতী এবং তাঁর স্বামী হার্ষ লিম্বোচিয়া (Harsh Limbochia)। প্রসঙ্গত ভারতীর প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডের শুরু থেকেই লক্ষ্য করলে দেখা যাবে নিজের কাজের জগতের প্রতি প্রচন্ড প্রফেশনাল তিনি।
তাই নিঃসন্দেহে তিনিই হলেন দেশের প্রথম প্রেগন্যান্ট মহিলা কমেডিয়ান। শুধু তাই নয় ৩ এপ্রিল মা হওয়ার পর প্রতিশ্রুতি মতোই মাত্র ১২ দিনের (12 Days) মাথায় কাজে ফিরেছেন ভারতী। এই মুহূর্তে জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘হুনারবাজ দেশ কি শান'(Hunarbaz Desh ki shaan)-এর অ্যাঙ্কারিং (Anchering) করছেন তিনি। যদিও তাঁর স্বামী হার্ষ আগেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সেই প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডে ভারতীর বদলে এই শোয়ের সঞ্চালনা করেছিলেন হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুরভী চন্দনা।
তবে পরবর্তীতে ছেলে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর মাত্র ১২ দিনের মাথায় সদ্যোজাত (New Born) সন্তান কে বাড়িতে রেখেই কাজে যোগ দিতে চলে আসেন ভারতী। ভারতীর এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে তেমনই নেটিজেনদের একাংশের বিরাট সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন ভারতী। একজনের মায়ের পক্ষে তার সদ্যোজাত সন্তানকে বাড়িতে রেখে আসা যে কতটা কষ্টকর, তা বোধ হয় শুধুমাত্র একজন মায়ের পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব।
কিন্তু তারপরেও কেউ কেউ একজন মায়ের সেই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানানোর পরিবর্তে যখন অসম্মান করেন তখন সত্যিই তা মেনে নেওয়া যায় না। ১২ দিনেই কাজে ফেরায় অনেকেই ভারতীর উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করেছিলেন ‘আরে ছেলে ফেলে রেখে কাজে চলে গেল! এত তাড়া কীসের।’এবার ট্রোলারদের এহেন ট্রোলিংয়ের (Trolling) মোক্ষম জবাব দিয়েছেন ভারতী নিজেই। প্রথমত সমস্ত নিন্দুকদের একহাত নিয়ে ভারতী বলেছেন নিজের কাজের জন্য বহুদিন ধরে দর্শকদের অনেক ভালোবাসা আশীর্বাদ পেয়ে তিনি ধন্য। অনেকে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনা করেছেন।
কিন্তু তিনি মনে করেন সমালোচনা এবং প্রশংসার মধ্যে তিনি কেবলমাত্র ইতিবাচক বিষয় গুলিই গ্রহণ করবেন। নিন্দুকদের মুখের ওপর সপাটে জবাব দিয়ে ভারতী বলেছেন ‘আমরা ওপর থেকে আশা কোনো পরী নই, যে বিশ্রাম নেব।’ এছাড়া ভারতী বলেন এমন অনেক কর্মজীবী মহিলা আছেন যাদের এক সপ্তাহের বাচ্চা কে রেখেও কাজে যেতে হয়।’ সেইসাথে ভারতী বলেছেন তিনি সৌভাগ্যবান যে তার বাড়িতে তার সন্তানের খেয়াল রাখার মতো তার কাছের কয়েকজন মানুষ আছেন।