গায়ের রঙ কালো বলে সইতে হয়েছে অপমান! এই আশীস বিদ্যার্থীই বলিউডের ঝুলিতে ভরেছেন জাতীয় পুরস্কার


কিছুদিন আগেই জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ড নিয়ে উত্তাল হয়েছিল গোটা মার্কিন মুলুক। শুধু আমেরিকা নয়, বর্ণবিদ্বেষ একটা অসুখ। কালো, ফর্সা, শ্যামলা, উজ্জ্বল এই বর্ণের ভিত্তিতেই আজও বিচার করা হয় প্রতিভা। আর এই মাপকাঠি থেকে রেহাই পাননি বলিউডের একজন প্রতিভাশালী অভিনেতা আশীস বিদ্যার্থীও। বলিউডে একাধিক ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে মানুষের মন জিতেছেন অভিনেতা। বুঝিয়ে দিয়েছেন তার অভিনয়ের দক্ষতা।

কিন্তু তবুও এহেন প্রতিভাবান অভিনেতাকেও সঠিক মর্যাদা না স্বীকৃতি কোনোটাই দিতে পারেনি বলিউড। বরং গায়ের রঙ শ্যামলা হওয়ার কারণে বারংবার অপমান, অবজ্ঞা, উপেক্ষা সইতে হয়েছে অভিনেতাকে। ১৯৬৫ সালে অভিনেতা জন্ম হয়। দিল্লির করোলবাগে ভাড়াবাড়ির একটি ছোট ঘরে তার ছোটবেলার দিনগুলো কেটেছে। অভিনেতার বাবা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী।

মা ছিলেন প্রবাসী বাঙালি, বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা খানিক নিঃসঙ্গতাতেই কেটেছে অভিনেতার। মন বসেনি পড়াশোনায় বরং ছোট থেকেই তার ঝোঁক ছিল অভিনয়ের প্রতি। ইতিহাসের ছাত্র আশীসের কলেজ জীবনেই অভিনয়ের ভূত তার মাথায় আরও কয়েকগুণ চেপে বসে। পাশাপাশি কলেজে তিনি বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলেন, মনোজ বাজপেয়ী এবং বিশাল ভরদ্বাজের মতো তাবড় অভিনেতাদের।

অভিনেতা বুঝে গেলেন চাকরি তার দ্বারা হবেনা, আর তাইই তাকে উপার্জনের মাধ্যমও করে তুলতে হবে তার অভিনয়কেই। বাবা মা অবসর নেওয়ার পর অভিনেতার ঘাড়ে এসে পড়ল বাড়তি দায়িত্ব। ১৯৯২ সালে কাজের খোঁজে দিল্লি থেকে মুম্বই চলে এলেন অভিনেতা। পরিচালক প্রযোজকদের দরজায় দরজায় ঘুরতে লাগলেন কাজ চেয়ে। কিন্তু অভিনয় জানলেও, তার গায়ের রঙ কালো হওয়ায় বারংবারই উপেক্ষার শিকার হতে হয় তাকে।

ছোট থেকেই তাকে ‘কালু’, ‘জল্লাদ’ এমন নানাবিধ নামে ডাকা হত। পর্দায় তাকে দেখা যাবে না এমন মন্তব্যও শুনতে হয়েছে তাকে। কিন্তু আশীস প্রমাণ করে দিয়েছেন প্রতিভার মাপকাঠি কখনো বর্ণ, লিঙ্গ, অথবা জাত দিয়ে হয়না। হাজারো অভাব, অনটন, অপমান উপেক্ষা করে একেরপর এক ছবিতে কাজ করে গিয়েছেন অভিনেতা। ভাড়াবাড়িতে থেকেই করেছেন দিন গুজরান।

১৯৮৬ সালে তিনি প্রথম বড় পর্দায় কন্নড় ছবি ‘আনন্দ’-এ অভিনয় করেছিলেন। কাল সন্ধ্যা’ ছবিতে অভিনয় করা ছিল বলিউডে করা প্রথম কাজ তার। । ১৯৯১ সালে কাজ শুরু হওয়ার পরে সেই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এছাড়াও তিনি ১৯৪২ এ লাভ স্টোরি’-তে আশুতোষের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিলো তাঁকে। এরপর দক্ষিণের ছবিতে রাজ করেছেন অভিনেতা। বলিউড কে এনে দিয়েছেন জাতীয় পুরস্কারও।