গসিপবিনোদন

মৃত্যুর পর থেকে আর ওনার ছবি দেখিনা! ‘ভিলেন’ আমজাদ খান ও শেহলা খানের প্রেম যেন সিনেমা

তিনি বলিউডের ‘আইকনিক ভিলেন’ (Iconic villain) ।শোলে -এর কয়েক দশক কেটে যাওয়ার পরও ‘ গব্বর সিং’ বলিউডের সবচেয়ে প্রিয় ভিলেন। আর এই ভূমিকায় অভিনয় করে আজও মানুষের মনে অমর হয়ে রয়েছেন আমজাদ খান (Amjad khan)। গত এক শতাব্দীর সবচেয়ে হিট ছবি হিসেবে ধরা হয় শোলে সিনেমাকেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ ই অগাস্ট মুক্তি পেয়েছিল শোলে। বলিউডের ইতিহাসে সেরা এই ছবি চলতি বছরেই পা দিল মুক্তির ৪৬ বছরে। এই ছবির ভিলেন আমজাদ খানের অভিনয় বলিউডের মাইলস্টোন হিসেবে ধরা হয়।

ছবিতে আমজাদের বিখ্যাত সংলাপ ‘কিতনে আদমি থে’ আজও লোকের মুখে মুখে ঘোরে। শোলেতে একজন খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করার পর , আমজাদ সত্তে পে সাত্তা, শতরঞ্জ কে খিলাড়ি, মুকাদ্দার কা সিকান্দার ইত্যাদি ব্লকবাস্টারে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রায় ৩০ বছর কেটে গিয়েছে আমজাদের মৃত্যুর। স্ত্রী শেহলা খান এবং তাদের তিন সন্তানকে ফেলেই পরলোকে পারি দিয়েছেন এই প্রতিভাবান অভিনেতা। তবে ভিলেন হিসেবে পারদর্শী হলেও প্রেমিক হিসেবে আমজাদ কিন্তু ছিলেন খুবই রোমান্টিক।

শেহলা খান ১৯৯২ সালে মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, এক প্রকার হার্ট অ্যাটাকের কারণে আমজাদকে হারানোর আগে ২০ বছর ধরে সুখীভাবে বিবাহিত ছিলেন। তাদের প্রেমের গল্পে রোমান্টিক বলিউড ব্লকবাস্টারের জন্য নিখুঁত উপাদান রয়েছে। ছোট বেলায়, শেহলা এবং আমজাদ বান্দ্রায় প্রতিবেশী ছিলেন। সে কলেজে বিএ করছিল এবং শেহলা ছিল চৌদ্দ বছরের স্কুল ছাত্রী যখন আমজাদ তার প্রেমে পড়েন।

আমজাদ খান শেহলা খানের প্রেমে পড়েছিলেন এবং স্কুলে পড়ার সময় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অদ্ভুত ভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন আমজাদ, শেহলা জানান, “একদিন আমি স্কুল থেকে ফিরছিলাম যখন সে আমার কাছে এসে বলল, তুমি কি শেহলার অর্থ জানো? এর অর্থ অন্ধকার চোখ’। তারপর বলল, ‘তাড়াতাড়ি বড় হও কারণ আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই’। কিছু দিনের মধ্যে, আমজাদ শেহলার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল যা তার বাবা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, এই বলে যে তিনি বিয়ের জন্য খুব কম বয়সী এবং এটি যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত ছিল।

আমজাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরপরই, শেহলার বাবা, প্রয়াত লেখক এবং গীতিকার, আখতার-উল-ইমান, তার প্রিয় কন্যাকে তার আরও পড়াশোনা শেষ করতে এবং তার প্রেমিকের কাছ থেকে দূরে থাকতে আলীগড়ে পাঠিয়েছিলেন। দুটি লাভবার্ড একে অপরের থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হওয়ার পরে, চিঠিই ছিল তাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম।

বহু বছর ধরে প্রেম করার পর আমজাদ খান এবং শেহলা খান তাদের সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এবার আমজাদের বাবা-মা শেহলার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন, যা সানন্দে মেনে নেন তার বাবা-মা। তবে আমজাদ চলে যাওয়ার পর আর কোনোওদিন তার সিনেমা দেখেননি গব্বরের স্ত্রী।

Related Articles

Back to top button