গসিপগানবিনোদনসিনেমা

একসময় আপত্তি ছিল আইটেম গান গাইতে! আজ ‘এক দো তিন’ গানের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় আলকা ইয়াগনিক

আলকা ইয়াগনিক (Alka Yagnik) নামটা অনেকের কাছে খুব পরিচিত। আশির দশকে শুরু হয়েচিল গানের যাত্রা। সেই থেকে বেশ কয়েক দশক পেরিয়ে আজ সমান জনপ্রিয় গায়িকার গান। মূলত বলিউড সিনেমার গানের জন্যই ব্যাপক জনপ্রিয় গায়িকা। বিটাউনের একাধিক সিনেমা তাঁর গানের দৌলতেই সুপারহিট হয়ে গিয়েছে। মাধুরী দীক্ষিত থেকে হেমা মালিনীর মত অভিনেত্রীরাও গায়িকার গানে জনপ্রিয়তার শীর্যে পৌঁছেছেন।

তবে মাধুরী দীক্ষিতের ছবিতে গাওয়া একটি গান আলকার জীবন বদলে দিতে সাহায্য করেছিল। সেই একটি গানের দৌলতেই রাতারাতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়ে যান আলকা। যদিও সেই গানটি রেকর্ডিং করার জন্য  প্রথমে  মোটেও রাজি ছিলেন না গায়িকা। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন বিখ্যাত ‘গান এক দো তিন’ এর কথাই বলছি।

মাধুরী দীক্ষিত ও অনিল কাপুর অভিনীত বিখ্যাত ছবি ‘তেজাব’ এর গান ‘এক দো তিন’। পরিচালক এন চন্দ্রার এই ছবিটি ১৯৮৮ সালে রিলিজ হয়েছিল। ছবিতে গানের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল। আরকে ফিল্মস এর অশোক দেশাই কলকাতায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে আলকার মায়ের সাথে পরিচয় করেন। তখন আলকার মা যিনি মেয়েকে গায়িকা করতে চান, আলকাকে দিয়ে গান শোনান।

গায়িকার গান পছন্দ হয়    তাঁর, এরপর রাজ কাপুরের কাছে তাঁর  নাম প্রস্তাব করা হয়। ছোট বেলায় মা বাবাকে সাথে নিয়েই মুম্বাইয়ে রাজ কাপুরের কাছে হাজির হন আলকা ইয়াগনিক। প্রথমে রাজ কাপুর ও পরে সংগীত পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল দুজনেরই পছন্দ হয় আলকার গান। এরপর তাকে দুটি প্রস্তাব দেওয়া হয়, চাইলে তখনই ডাবিং সিঙ্গার হিসাবে গান করতে পারেন বা কিছু বছর পরে আবারও আস্তে পারেন।

গায়িকার মা তখন কিছুবছর অপেক্ষার জন্য রাজি হন ও পরে পরিচালকের দৌলতে একাধিক গানও পেয়েছিলেন আলকা। তবে ‘এক দো তিন’ গানটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে একটি  কাহিনী। গানটির রেকর্ডিংয়ের আগেই ঠান্ডা লেগে ইনফেকশন হয়  গায়িকার। অথচ সেদিন রেকর্ডিং না হলে সমস্যার পড়তে হবে, কারণ পরের দিন মিউজিসিয়ানদের স্ট্রাইক ছিল। শেষমেষ ওপরওয়ালার ভরসায় রেকর্ডিং রাজি হন আলকা।

মুম্বাইয়ের মেহবুব ষ্টুডিওতে রেকর্ডিং হয় ‘এক দো তিন’ গানটি। শরীর খারাপ থেকেই নার্ভাসনেস থাকলেও প্রথমবারই একেবারে নিখুঁত গান করেন আলকা। গান শুনে লক্ষ্মীকান্ত বাবু বলে ওঠেন খারাপ গলা যদি এটা হয় তাহলে খারাপ গলাতেই গান গাও। আর গানটি এতটাই পছন্দ হয় যে সেটিকে ‘তেজাব’ ছবিতে ব্যবহার করেন পরিচালক। এরপর ছবিটি রিলিজ হলে সুপারহিট হয়, আর সাথে জনপ্রিয়তা পেয়ে যান আলকা ইয়াগনিকও।

Related Articles

Back to top button