হিন্দি টেলিভিশন জগতের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন রতন রাজপুত (Ratan Rajput) তিনি। দীর্ঘ এক দশকের অভিনয় জীবনে তিনি অভিনয় করেছেন একের পর এক জনপ্রিয় সব ধারাবাহিকে। শুরুটা হয়েছিল আজ থেকে ১৩ বছর আগে ২০০৯ সালে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আগলে জনম মোহে বেটিয়া হি কি জো’ দিয়ে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর।
নিজের দুর্দান্ত অভিনয় দক্ষতার সাহায্যে এই ধারাবাহিকের মধ্যে দিয়ে সমাজের নারীদের এক করুণ অবস্থা টিভির পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন অভিনেত্রী। পরবর্তীতে তাকে দেখা গিয়েছে রতন কা রিস্তা নামে টেলিপর্দার স্বয়ম্বর সভায়। অভিনয় করেছেন ‘রিস্তো কা মেলা’, এবং স্টার প্লাসের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মহাভারত’- এও। তবে আজ থেকে চার বছর আগে ২০১৮ সালে জি টিভির পৌরাণিক কাহিনীভিত্তিক সিরিয়াল ‘সন্তোষী মা’-তে শেষবারের মতো অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল রতন কে।
তারপর আরব সাগরের বুকে গড়িয়েছে অনেক জল। অতিক্রান্ত হয়েছে দীর্ঘ চার বছর। মাঝের এই সময়টাতে একদিনও টিভির পর্দায় দেখা যায়নি এককালের জনপ্রিয় এই টেলি অভিনেত্রীকে। কিন্তু কেন ? হটাৎ কোথায় উধাও হয়ে গিয়েছেন এই অভিনেত্রী? সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে নিজেই মুখ খুলে ছিলেন টেলি অভিনেত্রী রতন রাজপুত।
২০১৮ সালে যেদিন সন্তোষী মাতা শেষ হয় তারপরের দিনই নিজের বাবাকে চিরকালের জন্য হারিয়ে ফেলেছিলেন রতন। সেই ধাক্কা সামলাতে পারেনি অভিনেত্রী নিজেও। তারপর থেকেই অভিনেত্রী আচমকা তলিয়ে গিয়েছিলেন গভীর মানসিক অবসাদে।কোনো কাজেই মন বসাতে পারছিলেন না অভিনেত্রী। তাই শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিরতি নিয়ে নিয়েছিলেন রতন।
View this post on Instagram
আর এই সময়টাই জীবনের সবথেকে খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন পর্দার হাসিখুশি চনমনে এই অভিনেত্রী। রতন জানিয়েছেন ওই সময়টা তিনি কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেননি বরং তিনি নিজেই সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মন দিয়েছিলেন চাষবাসে। মিশে গিয়েছিলেন সাধারণ মানুষদের সাথে। আর অবসর সময়ে শান্তি খুঁজে পেতে ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রাকৃতিক পরিবেশে।এইভাবে তিনি মানসিক অবসাদ কাটিয়ে ফিরে আসেন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে চোখ রাখলেই দেখা যায় কিভাবে তিনি গ্রামের মহিলাদের সাথে মিশে গিয়ে চাষবাস করছেন মাঠে ঘাটে।
কখনো নেমে পড়ছেন জল কাদার মধ্যে, কিংম্বা কখনো নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন লাঙল। সংবাদ মাধ্যমে রতন জানিয়েছেন মুম্বাই ছাড়ার পর তিনমাস তিনি একটা গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে তিন মাস চাষবাস করার পাশাপাশি সেখানকার বাসিন্দাদের মত জীবন যাপন করতে শুরু করেছিলেন পর্দার সন্তোষী মা। আর সেটাই তাকে মানসিক অবসাদ কাটাতে সাহায্য করেছে। নিজেকে আগে থেকে আরো ভালো করে চিনতে শিখেছেন অভিনেত্রী।