মৃত্যু মানেই শূন্যতা, যা এককথায় অপূরণীয়। আর কাছের মানুষদের অকালে চলে যাওয়া জীবনটাকেই এমনভাবে ভাবে নাড়িয়ে দিয়ে যায় যে অনেকেই শোকে পাথর হয়ে যান। ঠিক এমনটাই হয়েছিল বাংলার অন্যতম হাসিখুশি প্রাণখোলা অভিনেত্রী রচনা বন্দোপাধ্যায়ের (Rachna Banerjee) সাথে। কিছুদিন আগেই বাবাকে হারিয়ে কথা বলার শক্তি পর্যন্ত হারিয়েছিলেন অভিনেত্রী।মানসিক ভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যার জেরে কাজ থেকেও সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন সেসময়। পরে অবশ্য নিজেকে সামলে স্বমহিমায় ফিরে এসেছিলেন বাংলার জনপ্রিয় গেম শো দিদি নাম্বার ওয়ানের সঞ্চালনায়।
তবে বাবার মৃত্যু শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই সম্প্রতি আরও এক বড়সড় আঘাত পেয়েছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি টলিউডঅভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক পেয়েছেন অভিনেত্রী। এমনিতে অভিনেত্রী রচনা বন্দোপাধ্যায়ের সাথে ইন্ডাস্ট্রির একাধিক তারকাদের সদ্ভাবের কথা অজানা নয় কারও। অভিনয়ের সূত্র ধরে পাওয়া বেশ কয়েকজন কাছের মানুষদের মধ্যেই অন্যতম ছিলেন অভিষেক চট্টোপাধ্যায় (Abhishek Chatterjee)। তাই অভিনেত্রীর কাছে টলিউড হার্টথ্রব অভিষেক মানেই একজন বন্ধু, একজন দাদা। তাই প্রিয় মিঠুদার এইভাবে অকালে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন অভিনেত্রী।
প্রসঙ্গত বাংলা জুড়ে রচনা বন্দোপাধ্যায়ের অনুরাগীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণা তথা ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ তিনি। বাংলার পাশাপাশি একসময় অভিনয় করেছেন বলিউডেও। জুটি বেঁধেছিলেন স্বয়ং বলিউড শহেনশা অমিতাভ বচ্চনের সাথেও। আর আজ ৪৭ বছর বয়সেও চেহারায় কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। একসময় মিস ক্যালকাটাও হয়েছিলেন তিনি, কিন্তু রচনা নামে নয়। একবার এক টক শোতে এসে রচনা জানিয়েছিলেন, তাঁর ভাল নাম ছিল ঝুমঝুম। স্কুলের শংসাপত্র থেকে শুরু করে মিস ক্যালকাটার খেতাব সবতেই উল্লেখ রয়েছে এই ঝুমঝুম (Jhumjhum) নামটিই।
তাহলে অভিনেত্রীর নাম রচনা হল কী করে? মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী খবর অভিনেত্রীকে এই রচনা নাম দিয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা সুখেন দাস (Sukhen Das)। তিনি ছিলেন রচনার বাবার বন্ধু। আর তিনিই রচনাকে ছবির অফার দিয়ে বলেছিলেন, ‘ঝুমঝুম নামটা চলবে না, সকলে বলবে মুনমুনের মেয়ে।’ তাই সেসময় ঠিক করা হয় রবীন্দ্র রচনাবলী থেকে খোঁজা হবে ঝুমঝুমের নাম। আর ঠিক তখনই সুখেন দাশের মনে হয়, ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে নাম। সেই থেকে ঝুমঝুম হয়ে গেলেন রচনা।
আর রচনা নামেই এখন গোটা দুনিয়া চেনে অভিনেত্রীকে। তবে আজকের এই বিখ্যাত রচনা কি আদৌ মনে রেখেছেন সুখেন দাসকে? বেঁচে থাকলে হয়তো এর উত্তর নিজের মুখেই দিতেন সুখেন দাস। কিন্তু তিনি তো আর এই পৃথিবীতে নেই। ২০০৪ সালেই প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতা। তাই এই প্রশ্নের উত্তরে সুখেন-কন্যা তথা অভিনেত্রী ও ইম্পা প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্ত (Piya Sengupta) সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, “দেয়, দেয়, রচনা বাবাকে সবসময় কৃতিত্ব দেয়। বাবাকে ভীষণ সম্মান করে। আমি যদি ‘না’ বলি মিথ্যাচার করা হবে। রচনা আগেও বাবাকে সম্মান করত। এখনও বাবাকে সম্মান করে।”