বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। টলিউডের সর্বগুণসম্পন্না এই অভিনেত্রী শুধুমাত্র অভিনয় দিয়েই আরও নানাভাবে নানা সময়ে মন জয় করে নিয়েছেন দর্শকদের। জীবনের কঠিন সময়ে চরম অসুস্থতার মধ্যে দিয়েও লড়াই চালিয়ে দিনের পর দিন অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটি পুরনো ছবি পোস্ট করেছিলেন ঋতাভরী।
উল্লেখ্য গতবছরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে ৮ মাসের মধ্যে পরপর ২ বার কঠিন অস্ত্রপচার হয়েছিল ঋতাভরীর শরীরে। যারা শারীরিক নানান সমস্যার পাশাপাশি মানসিভাবেও একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। ‘হারিয়ে যাওয়ার ভয়’ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ না পাওয়ার অনিশ্চয়তা, সবকিছু মিলিয়ে নিজেই নিজের মনের সাথে সেসময় একের পর এক কঠিন লড়াই চলছিল অভিনেত্রীর। সেইসাথে উপরি পাওনা ছিল শরীরের বাড়তি ওজনের জন্য নেটিজেনদের কটাক্ষ।
কিন্তু হার মানেননি অভিনেত্রী। অসুস্থ শরীরেই কাজে ফিরেছিলেন তিনি। পুরনো সেই স্মৃতি হাতড়েই এদিন সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বসে থাকার দুটি ছবি দিয়ে অভিনেত্রী লিখছেন, ‘এই ছবিগুলো গত বছরের। কিন্তু এখনও কেউ যদি আমায় প্রশ্ন করে, কেমন আছো ঋতাভরী? আমি বুঝে উঠতে পারি না তার কী উত্তর দেব! দারুণ? সামান্য ভালো? ভালো? আমি মনে মনে এখনও বিশ্বাস করি, এক চেয়ে কঠিন সময় আমার জীবনে আর আসেনি। হ্যাঁ আমি এখন ভালো আছি। কিন্তু দীর্ঘ একটা সময় ধরে আমি ভালো ছিলাম না। এই দুটি ছবি ঠিক ৬ মাসের ব্যবধানে। প্রথম ছবিতে আমি হাসছি কারণ সে সময় হাসপাতালে থাকাটা আমার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল।’
সেইসাথে ঋতাভরী আরও লেখেন, ‘কিন্তু দ্বিতীয়বার বিষয়টা ততটা সহজ ছিল না। প্রত্যেক সপ্তাহে চিকিৎসার জন্য আমায় অন্তত দুদিন করে হাসপাতালে যেতে হত। কিন্তু এখন একমাত্র ভালো খবর হচ্ছে, আমি ভালো আছি। হ্যাঁ মানসিক আর শারীরিকভাবে সুস্থ হতে আমার বেশ লম্বা সময় লেগেছে। তবে এখন আমি মেনে নিয়েছি ওটা আমার জীবনের একটা কঠিন সময় ছিল, আর ওই সময়টাকে ফেলে আমায় এবার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। জীবন একটা দৌড়। আমি অসুস্থতা নিয়েও আমার পড়াশোনা শেষ করেছি, ছবির কাজ করেছি। কিন্তু সাফল্য কী হাসপাতালে থাকার শারীরিক কষ্ট, সম্পর্ক ভাঙার মানসিক কষ্টে প্রলেপ দিতে পারে? জীবন দৌড়ের শেষ কোথায় কেউ বলে দেবে না। কারণ প্রত্যেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবন কাটাতে ব্যস্ত। আমিও ঠিক তেমন।’
সেইসাথে নিজের মানসিক অবসাদের কথা অকপটে স্বীকার অভিনেত্রী বলেছেন, ‘শারীরিক মানসিক কষ্টকে আমল না দিয়ে কাজ করে গিয়েছি। নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলিনি। কিন্তু এটার জন্যই আমার সেরে ওটা আরও ৬ মাস পিছিয়ে গিয়েছে, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি অনেকবার। এইভাবে কাজ করা আমার উচিত হয়নি। ভুল করেছি। এই ভুল আপনারা করবেন না। আমি এই লম্বা পোস্টটা লিখছি যাতে কেউ নিজের শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা কর্মবিরতি নিয়ে অপরাধবোধে না ভোগেন। এটা সবার প্রয়োজন। আর হ্যাঁ, শারিরীক অসুস্থতা নিয়ে এটা আমার শেষ পোস্ট। খুব তাড়াতাড়ি নতুন কিছু শুরু হবে। নতুন কাজের ঘোষণা আসছে।’ উল্লেখ্য খুব শিগগিরই নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নতুন সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করবেন ঋতাভরী। জানা যাচ্ছে এই সিনেমায় তার এখন কার চেহারাই হতে চলেছে প্রধান ইউএসপি।