মধুচক্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে গ্রেফতার হওয়ার পর আসল কাহিনী সামনে আনলেন সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায়


কিছুদিন আগেই দেশপ্রিয় পার্কের কাছে একটি স্পা তে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করে অভিনেতা সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মধুচক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। তারপর সেই ঘটনা রটে যায় চারিদিকে। যেহেতু অভিনেতা তাই এই খবর ভাইরাল হতে সময় নেয় না। কিন্তু সব সময় আমরা যেমনটা ভেবে থাকি তেমনটা নাও হতে পারে। জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে এসে কথাই আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে শেয়ার করলেন অভিনেতা সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেখানে সৌগত লিখেছেন,’আপনারা যা জানেন না সেটা জানাতেই এত কিছু লেখা। আপাতত জামিন পেয়েছি কিন্তু লকআপ থেকে বেরিয়ে নয়না আমার স্ত্রী না থাকলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না আমার।নয়না আমাকে সামলেছে। সেই নয়না, মধুচক্রে পুলিশি হানার ঘটনা নিয়ে লিখতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশ যার যৌনতা থেকে চেহারার বর্ণনা নিয়ে নানান কথা লিখেছে।’

‘আমার বয়স্ক বাবা খবরের কাগজে পড়েছেন তার ছেলে কেমন। খবরের কয়েকটা লাইন আমাদের জীবনকে শেষ করে দিল। আমার নাম সব জায়গায় লেখা হলেও স্পা এর মালিকের নাম কোথাও লেখা হয়নি। আমি এবং আমার স্ত্রী প্রায়ই স্পাতে যাই। যদিও বহু বাঙালির ধারণা স্পা মানেই বন্ধ ঘরে নগ্ন হয়ে অন্য মেয়ে বা ছেলের সঙ্গে কিছু একা করা হয়। কিন্তু তবুও আমরা স্পাতে যাই মাসাজ নি।’

‘সেদিন একটা অফার দেখে নয়নাকে বললাম আমি স্পা তে যাচ্ছি। দেশপ্রিয় পার্কের কাছে ওই স্পাতে আগে যাইনি।সেদিনই প্রথম।ওখানে যাওয়ার পর একটি ছেলে আমায় ভেতরে নিয়ে গেল। আমি ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তার মধ্যেই হঠাৎ দেখলাম কিছু লোক এসে স্পা এর সব ঘরের দরজা খোলার জন্য চিৎকার শুরু করলো। বুঝতেই পারিনি এসটিএফ এবং গোয়েন্দা বিভাগ তখন সেখানে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।’

‘ওদের মধ্যে এক অফিসার আমায় চিনতে পারলেন। নিশ্চয়ই টিভিতে দেখে থাকবেন। পরে আমার ফোনটা কেড়ে নেওয়া হলো। কিন্তু তখনও আমি অবাক! 14 বছর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার পর কিছু লোককে তো চিনেছি যাদের ফোন করে সাহায্য চাইলে এত হয়রানিতে পরতাম না। কিন্তু সেটাও মনে হয়নি, কারণ আমি ভাবতেই পারিনি আমার কোন ক্ষতি হবে বা হতে পারে।’

‘এর মধ্যেই অন্যদের সঙ্গে আমায় ধরে টালিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে ফোন হাতে পেয়ে নয়না কে জানালাম। তখনো ভাবছি এবার নিশ্চয়ই ছাড়া পেয়ে যাব কারন আমি তো কিছু করিনি কোন দোষ করিনি। সিসিটিভি ফুটেজে সব আছে। আমি শুধু ওই স্পাতে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। রাত বাড়তে লাগল। নয়না থানার বাইরে গাড়িতে। আমার সঙ্গে ওকে দেখা করতে দেওয়া হলো না। শুনলাম আমাকে গ্রেফতার করা হবে।’

‘পুলিশ অফিসার বললেন, বাড়ির লোককে জানাতে। পরের দিন যেন আলিপুর কোর্টে উকিল নিয়ে কেউ হাজির হয়। এখনো কেমন সব গুলিয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক হতে পারছিনা। জেল যাওয়া নয়, আসলে অভিনেতা হওয়া পাপ সেটা বুঝে গিয়েছি। বিপদের দিনে কোন বন্ধু পাশে দাড়ায় না। কেউ নয়নাকে একবারও ফোন করে জানতে চায়নি আমি কেমন আছি!’

‘সেদিন মধ্যরাতে লালবাজারের লকআপে বন্দী হলাম আমি। চোর-ডাকাত খুনীরা যেমন হয়। ঘুটঘুটে অন্ধকারের নিজের শরীর ঠিক করে দেখা যায় না। ওখানে মধুচক্রে ধরা পড়েছে জেনে শুরু হলো অশ্রাব্য গালাগাল। এমন ভয়ঙ্কর রাত আমার জীবনে এর আগে কখনো আসেনি। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আমি বন্ধুদের নিয়ে নয়নাকে নিয়ে আনন্দে ছিলাম। কিন্তু এটা কি ঘটলো আমার সঙ্গে! তদন্তের জন্য খুব সুনাম রয়েছে লালবাজার পুলিশের তারা তদন্ত করে দেখুক গত 14 বছরে বা তার আগে আমি কোন পতিতালয় গিয়েছি কিনা! আমাদের বডি কনট্যাক্ট কাজ করতে হয় কেউ বলুক তার সুযোগ নিয়ে আমি কোনো অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছি বা কাউকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছি!তাহলে অভিনয় ছেড়ে দেবো।’

‘পুলিশ তার কাজ করছে। আইন তার পথে চলছে। আর হ্যাঁ এত কিছুর পরও আমি সংবাদ মাধ্যমকে বিশ্বাস করি। তবুও যা ক্ষতি হবার হয়ে গেল। পুজো আসছে, কোনও প্যান্ডেলে গেলে কোনও মহিলা আমায় দেখে যদি যা খুশি বলে দেন কি বলব তাকে আমি!’


Like it? Share with your friends!

700
700 points